
ফুলিয়া: একটা সময় ফুলিয়ার মাটিতে কবি কৃত্তিবাস বাংলা ভাষায় রামায়ণ রচনা করেছিলেন। বর্তমানে পাল্টেছে যুগ। এখন ভাষা পরিবর্তন করে দেয় গুগল, গুগল মানুষকে পথ চেনায়, তেমনই স্বপ্নপূরণও করে গুগল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাল্টেছে মানুষের জীবনযাত্রার। ঘটেছে পরিবর্তন। কৃত্তিবাসের সেই মাটিতেই নেদারল্যান্ডের জনপ্রিয় ফুল ফুটিয়ে নজির গড়লেন এক যুবক।
নদিয়া জেলার শান্তিপুর থানার ফুলিয়া চটকাতলার বাসিন্দা অভিনব বসাক পেশায় একজন তন্তুজীবী। এই যুবকের হাত ধরেই নেদারল্যান্ডসের জনপ্রিয় ফুল টিউলিপ ফুটছে নদিয়ার মাটিতে। কাশ্মীরে নয় ফুলিয়ায় এমন ফুল দেখে অভিভূত এলাকার বাসিন্দারা। টিউলিপ ফুলের আদিনিবাস নেদারল্যান্ডসে। এছাড়াও ঠান্ডা আবহাওয়ার জন্য কাশ্মীরেও এই ফুলের দেখা মেলে। ফুলিয়ায় এটা সম্ভব করে দেখালেন কীভাবে?
অভিনব বসাক জানান, গতবছর কর্মসূত্রে দিল্লিতে গিয়ে টিউলিপ ফুল প্রথম কাছ থেকে দেখেন তিনি। সেই সময়ই তাঁর মনে প্রশ্ন জাগে, দিল্লিতে যদি এই ফুল ফোটানো সম্ভব হয়, তবে নদিয়ার মাটিতে কেন নয়? এই ভাবনাকেই বাস্তবে রূপ দিতে উদ্যোগী হন তিনি।
গত বছর ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে অনলাইনে ১২৫টি টিউলিপ বাল্ব অর্ডার করেন অভিনব। সঠিক নিয়ম মেনে পরিচর্যা করে মাত্র ৩২ দিনের মাথায় গাছে ফুল ফোটাতে সক্ষম হয়েছেন অভিনব। যদিও টিউলিপ চাষের জন্য নির্দিষ্ট জলবায়ু ও যত্নের প্রয়োজন, তবুও প্রতিদিন গুগলের সাহায্য নিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা করে সময় দিয়ে গাছগুলোর পরিচর্যা করেছেন তিনি। বর্তমানে প্রায় ১৮টি গাছে ফুল ফুটেছে। তিন রঙের টিউলিপ গাছ লাগানো হলেও এখনও পর্যন্ত শুধুমাত্র সাদা রঙের ফুলই ফুটেছে।
অভিনব বসাকের বাড়িতে ফুল, ফল এবং নানা ধরনের বাহারি পাতাবাহারি গাছ রয়েছে। অভিনব নিজেই বলেন, তাঁর খুব একটা গাছ বা ফুলের শখ না থাকলেও টিউলিপ ফোটানোর চ্যালেঞ্জ তাঁকে ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল। কাশ্মীরের টিউলিপ দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন এলাকার মানুষ।