
কৃষ্ণনগর: পৌরবোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বসানো হয়েছে প্রশাসক। আর তার পরই প্রায় আড়াইশো অস্থায়ী কর্মীকে কাজ থেকে ছাঁটাই করা হয়েছে। এরই প্রতিবাদে উত্তপ্ত হয়ে উঠল কৃষ্ণনগর পৌরসভা চত্বর। কাজ হারা পৌরসভার অস্থায়ী কর্মীরা তৃণমূলের পতাকা হাতে বিক্ষোভে সামিল হলেন। কৃষ্ণনগর পৌরসভার গেটে তালা দিয়ে বাইরে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। বিক্ষোভকারীরা জানিয়ে দেন, যতক্ষণ না তাঁদের কাজে পুনরায় বহাল করা হচ্ছে, ততক্ষণ এই আন্দোলন চলবে। বসানো
কৃষ্ণনগর পৌরসভায় প্রশাসক বসানোর পর প্রায় আড়াইশো জন অস্থায়ী দিনমজুর পৌরকর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। প্রতিবাদে বিক্ষোভ। কৃষ্ণনগরের মহকুমাশাসক এই পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথম দফায় প্রায় ১০৫ জন দিনমজুর চুক্তিতে কাজ করা কর্মীদের ছাঁটাই করেন। আর নতুন বছরের প্রথম দিনই প্রায় দেড়শো জন কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়। তাঁদের মধ্যে অনেকেই রয়েছেন, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে যাঁরা পৌরসভায় অস্থায়ী দৈনিক চুক্তিতে কাজ করে চলেছেন। সেই সকল দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা কর্মীদেরও ছাঁটাই করা হয় বলে অভিযোগ।
বারবার তৃণমূল কাউন্সিলরদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে পৌরসভা প্রশাসক দ্বারা পরিচালনা সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য পৌর বোর্ড। সম্প্রতি মহকুমাশাসককে প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয় কৃষ্ণনগর পৌরসভায়। বর্তমানে পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্বে রয়েছেন কৃষ্ণনগরের মহকুমাশাসক শারদ্বতী চৌধুরী। প্রশাসক দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে একে একে কর্মী সংকোচনের ঘটনা ঘটছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পৌরসভায় বেশ কিছু দৈনিক চুক্তিভিত্তিতে অতিরিক্ত কর্মী রয়েছে, যাঁদের বেতন দেওয়া পৌরসভার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তাই পৌরসভার এই সিদ্ধান্ত।
তবে আন্দোলনকারীরা এদিন বলেন, তাঁরা কোনওদিন কাজে ফাঁকি দেননি। করোনার সময়ও নিজেদের কাজ করেছেন। করোনার সময় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে বিমাতৃসুলভ আচরণ করা যাবে না। যতক্ষণ না পুনর্বহাল করা হচ্ছে, ততক্ষণ তাঁরা ঘরে ফিরে যাবেন না। তাঁরা তৃণমূলের সমর্থক বলেও বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন।