
বনগাঁ: ব্রেন স্ট্রোকের রোগী। তাঁকেই অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে আসা হল এসআইআরএর শুনানিতে। শুরু রাজনৈতিক তরজা। তবে, নির্বাচন কমিশন আগেই বলেছিল, ৮৫ উর্ধ্ব বৃদ্ধ আর অসুস্থদের শুনানি বাড়িতেই হবে। কিন্তু কেন তারপরও শুনানি কেন্দ্রে নিয়ে আসা হল উঠছে তেমনই প্রশ্ন।
উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁর পাইকপাড়ার বাসিন্দা জিন্না মণ্ডল। ব্রেন স্ট্রোকের কারণে তাঁর হাতে-পায়ে কোনও শক্তি নেই। মঙ্গলবার বাবার নামের মিল না থাকার কারণে তিনিও এসআইআর-এর শুনানিতে এসেছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জিন্না মণ্ডলকে অ্যাম্বুলেন্সে করে বনগাঁ বিডিও অফিসের শুনানি কেন্দ্রে আনা হয়। জিন্নার ভাই আকবর মণ্ডল বলেন, “আমরা বিপদে আছি। এমনিতেই দাদাকে নিয়ে বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছি। তার মধ্যে তাকে এসআইআর-এর শুনানিতে ডাকা হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামানোর কোনও পরিস্থিতি নেই।” শেষ পর্যন্ত অ্যাম্বুলেন্সে এসেই শুনানির কাজ করেন সরকারি আধিকারিকরা।
শুনানির দায়িত্বে থাকা সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন, পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ এলেই ওঁর শুনানি হয়ে যেত। যেহেতু অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে এসেছে, তাই তাঁরা এখানে এসে কাজ করে নিয়েছেন।
এই বিষয়ে ঘাটবাওড় গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান আনিসুর জামান মণ্ডব বলেন, “দুর্ভাগ্যের বিষয় হল যাদের ২০০২ সালে নাম আছে, তাঁদেরকে শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। এবং অসুস্থ রোগী তাদেরও শুনানি কেন্দ্রে আসতে হচ্ছে। যাতে একটা বৈধ ভোটারের নাম না যায় সেই কারণে আমরা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে অ্যাম্বুলেন্সে করে শুনানি কেন্দ্রে আনবার ব্যবস্থা করে দিয়েছি।” অন্যদিকে, এই ঘটনার জন্য তৃণমূলকে দায়ী করেছে বনগাঁ জেলা বিজেপি সভাপতি বিকাশ ঘোষ। তিনি বলেন, “ম্যাপিংয়ে বিএলওরা ভুল করেছে সেই কারণে ডাকা হচ্ছে। তৃণমূলের কথা শুনে বিএলওরা এই ধরনের কাজ করেছে।”