
বনগাঁ: প্রেমের সম্পর্ক থেকে পকসো মামলা, আর দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর শেষমেশ মিলন। উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ মহকুমা আদালতে সাক্ষী থাকল এক বিরল ঘটনার। আদালতের সম্মতিতে এবং দুই পরিবারের উপস্থিতিতে আইনি জটিলতা কাটিয়ে এক হল চার হাত। কিন্তু কোথা থেকে ঘটনার সূত্রপাত?
২০২৫ সালের ৭ অক্টোবর নদিয়ার এক নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে গাইঘাটার এক যুবকের বিরুদ্ধে। পুলিশের কাছে অভিযোগও দায়ের করে কিশোরীর পরিবার। অভিযোগ, প্রেমের সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে ওই নাবালিকাকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয়েছে। অন্তঃসত্ত্বাও হয়ে পড়ে ওই নাবালিকা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ পকসো আইনে মামলা রুজু করে। অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতারও করে।
গত মঙ্গলবার বনগাঁ আদালতে এই মামলার শুনানি ছিল। এদিকে ততদিনে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গিয়েছে বাস্তবতা। বর্তমানে ওই নাবালিকা যুবতী। ১৮ বছরের গণ্ডি পার করে তিনি এখন প্রাপ্তবয়স্ক। এরইমধ্যে এবার আদালতে একেবারে নাটকীয় মোড়। এদিন আদালতে দাঁড়িয়ে উভয় পক্ষই বিচারকের কাছে স্পষ্টই জানান তাঁরা অতীতের তিক্ততা ভুলে বৈবাহিক জীবন শুরু করতে চান। যুবতী নিজেও ওই যুবকের সঙ্গে সংসার করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
মামলার শুনানিতে সমস্ত মানবিক দিক বিবেচনা করে তাঁদের আবেদনে সাড়া দেন বিচারক। দুই পরিবারের সম্মতির ভিত্তিতে আদালত চত্বরেই অভিযুক্তের সঙ্গে বিয়ে হয়ে যায় নাবালিকার। যদিও ইতিমধ্যেই অভিযুক্তের জামিনও মঞ্জুর করছে আদালত। বনগাঁ মহকুমা আদালতের সরকারি আইনজীবী সমীর দাস জানান, “বিচারক তাঁদের আবেদনে সম্মতি দিয়েছেন। অভিযুক্ত যুবককে ১০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন মঞ্জুর করেছেন।” জামিন পাওয়ার পরেই আদালত চত্বরে আইনজীবী থেকে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতেই হয়ে যায় মালাবদল, হয় সিঁদুরদান।