Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

‘মদনও গোপাল, উনিও নাড়ু খান,’ টিপ্পনী গোপালের

'মদনদার পুরো নাম মদন গোপাল মিত্র। স্বভাবত তার নামেও গোপাল আছে। তার মানে তিনিও নাড়ু খান!'

'মদনও গোপাল, উনিও নাড়ু খান,' টিপ্পনী গোপালের
ফাইল চিত্র
Follow Us:
| Updated on: Jun 07, 2021 | 9:41 PM

কামারহাটি: কামারহাটি পুরসভার পুর প্রশাসক হতে চেয়ে ফেসবুক লাইভ করে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ভর্ৎসিত হয়েছিলেন মদন মিত্র (Madan Mitra)। এ বার সেই ফেসবুক লাইভ নিয়ে সরগরম কামারহাটি পুরসভার বৈঠক। সোমবার দুপুর ২টোয় কামারহাটি পুরসভার সমস্ত কো-অর্ডিনেটরদের নিয়ে একটি বৈঠক ডাকা হয়। সেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক ও পুর প্রশাসকের দ্বন্দ্বে কার্যত সরগরম কামারহাটি পুরসভার বৈঠক।

সংশ্লিষ্ট ফেসবুক লাইভ থেকে কামারহাটি বিধানসভার বিধায়ক মদন মিত্র মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্য করে পুর প্রশাসক গোপাল সাহার নামে প্রকাশ্যেই বিদ্রুপ করেন। বলেছিলেন, “গোপাল নাড়ু খায়।” পুর প্রশাসকের দায়িত্ব পেলে তিন মাসের মধ্যে চেহারা পাল্টে দিয়ে তিনি এও বলেছিলেন, এর জন্য বিধায়ক পদ থেকেও ইস্তফা দিতে রাজি তিনি। এই প্রেক্ষিতে এদিনের বৈঠকে কামারহাটির পুরসভার প্রশাসক গোপাল সাহার প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে, তিনি বলেন, দলের বিধায়ক মদন মিত্রের এরকম কথাতে তিনি দুঃখিত। তাঁর সম্বন্ধে বিধায়ক কেন এরকম কথা বললেন? পুরসভার উন্নয়নের বিষয়ে কেন মদন এরকম মন্তব্য করলেন, তা তিনি এখনও ভেবে উঠতে পারছেন না।

এর পর মদন মিত্রের ‘গোপাল নাড়ু খায়’ প্রসঙ্গে তাঁর টিপ্পনী,’মদনদার পুরো নাম মদন গোপাল মিত্র। স্বভাবত তার নামেও গোপাল আছে। তার মানে তিনিও নাড়ু খান!’ যদিও প্রশাসক গোপাল সাহা এও বলেন মদন মিত্র তাঁর অভিভাবক। বড়রা ছোটদের অনেক কিছুই বলতে পারেন। কিন্তু ছোটদের বড়দের অসম্মান করা একদমই উচিত নয়।

চুপ থাকেননি মদনও। বলেন, ‘তৃণমূলে এখন এত ভিড় যে জায়গাই পাওয়া যাচ্ছে না।’ প্রাক্তন মন্ত্রীর সংযুক্তি, ‘গোপাল গোপালের কাজ করবে, আর আমি আমার কাজ করব।’ কামারহাটি পুরভবনে মিটিংয়ে যোগ দিয়ে এসে আক্ষেপও শোনা যায় তাঁর গলায়। ফেসবুক পোস্ট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ওটা গোপাল আর আমার ব্যাপার। এক জায়গায় ঘটি-বাটি থাকলে একটু হবেই।’

এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বরানগরের বিধায়ক তাপস রায় ও তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। তবে এই ব্যাপার নিয়ে তাঁরা কেউই মুখ খুলতে চাননি।

এদিকে একই দলের বিধায়ক ও পুরো প্রশাসকের এই দ্বন্দ্বকে কামারহাটির মানুষের কাছে পৌঁছতে চাইছেন সিপিএম নেতৃত্ব। সিপিএমের প্রতিক্রিয়া, যারা নির্বাচনের আগে মানুষকে উন্নয়ন দেবে বলে ঘোষণা করেছিলেন এবং নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন, এখন তাদের দলের বিধায়কই জনসমক্ষে জানাচ্ছেন পুরসভায় কোনও উন্নয়ন হয়নি।

আরও পড়ুন: ‘বোমার কারখানাই পশ্চিমবঙ্গের কুটির শিল্প’ তোপ দিলীপের, নজরে পুরসভা ভোট 

এ নিয়ে বিজেপির টিপ্পনী, কামারহাটি পৌরসভা অঞ্চলে অনুন্নয়নের কথা তারা বারবার বলে এসেছে। আর এখন তৃণমূলের বিধায়কই জনসমক্ষে স্বীকার করে নিলেন যে উন্নয়ন হয়নি। এই স্বীকারোক্তি আরও আগে করা উচিত ছিল বিধায়কের, মন্তব্য বিজেপির উত্তর শহরতলীর সভাপতি কিশোর করের।