
উত্তর ২৪ পরগনা: পুড়ে যাওয়া মণ্ডপে হবে ভারতমাতার পুজো! খড়দহে দাঁড়িয়ে হুঙ্কার তুললেন বিজেপি নেতা কৌস্তব বাগচী। ২৪ ঘণ্টার মধ্য়েই বেহালার পর আবারও একই রকম ঘটনা শহর থেকে খানিকটা দূরে। গেরুয়া শিবিরের প্রজাতন্ত্র দিবসের মঞ্চ পুড়িয়ে দিল দুষ্কৃতীরা, উঠল অভিযোগ। যদিও বিজেপি কাঠগড়ায় দাঁড় করাল রাজ্য়ের শাসক শিবিরকে।
ঘটনা খড়দহের পাতুলিয়া পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বটতলা এলাকার। সেখানে ৭৭ তম প্রজাতন্ত্র দিবসে উপলক্ষে ‘ভারতমাতা’র পুজোর আয়োজন করেছিল বিজেপি। কিন্তু রাতের অন্ধকারে সেই মঞ্চেই আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। যা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল এলাকায়। সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান গেরুয়া শিবিরের নেতা-কর্মীরা। এই বিক্ষোভস্থলে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি নেতা কৌস্তব বাগচীও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অকুস্থলে পৌঁছল পুলিশবাহিনী।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক তরজা পেয়েছে বাড়তি মাত্রা। রবিবার বেহালায় বিপ্লব দেবের মঞ্চে আগুন ধরানোর ঘটনাকে আধার করে খড়দহের ঘটনার সঙ্গে তৃণমূলের নাম জুড়ে দিয়েছেন বিজেপি নেতারা। বিজেপি নেতা কৌস্তব বাগচী বলেন, ‘আমাদের যে আচার আচরণ, এই পুজোকে কেউ আটকাতে পারবেন না। পুড়ে যাওয়া প্যান্ডেলের সামনে ভারতমাতার মূর্তি রেখে পুজো হবে। আমরা পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করব। জেহাদি শক্তিরা শাসকদলের মদতে এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে।’
একই অভিযোগ বিজেপির রাজ্য বুথ প্রেসিডেন্ট ভক্ত বিশ্বাসের। তাঁর অভিযোগ, ‘পুজোর আয়োজন হয়েছিল। খিচুরি ভোগ বিতরণের কথা ছিল। কিন্তু সবটাই এরা নষ্ট করে দিল। বর্তমান সরকারের মদত রয়েছে। হিন্দু সম্মেলনের উপর আঘাত করছে। তৃণমূলের নেতারা হিন্দু সম্মেলনের সভা করতে দিচ্ছে না।’
তবে এই সকল অভিযোগকে গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল শিবির। স্থানীয় নেতাদের দাবি, এই সব পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। এদিন পাতুলিয়া পঞ্চায়েতের উপপ্রধান কিশোর বৈশ্য বলেন, ‘এই সব ওদের নিজেদের পূর্বপরিকল্পিত। উস্কানি দিতে, নজর কাড়তে এসব করছে। সিসি ক্য়ামেরা দেখুক, তা হলেই তো স্পষ্ট হয়ে যাবে কে করেছে, কারা করেছে। আমরাও প্রস্তুত রয়েছি, আমাদের ডাকলেই জমায়েত করতে পারি, সিসি ফুটেজের দাবি জানাব। দুধ কা দুধ, পানি কা পানি হয়ে যাবে।’