
দেগঙ্গা: এসআইআর-র শেষ পর্যায়ে ফের এক বিএলও-র মৃত্যু। উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গার আমুলিয়ায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ওই বিএলও-র মৃত্যু হয়েছে। মৃতের নাম মণিরুল ইসলাম তরফদার। এসআইআর প্রক্রিয়ায় সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় তাঁর বুথের ৯৪ জনের নাম বাদ পড়েছে। মৃতের পরিবারের দাবি, মানসিক চাপেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মণিরুলের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনায় কমিশনকে কাঠগড়ায় তুলে সরব হয়েছে তৃণমূল।
দেগঙ্গার আমুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৯৪ নম্বর বুথের বিএলও ছিলেন মণিরুল ইসলাম তরফদার। বছর সাতচল্লিশের মণিরুল একটি স্কুলের চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক ছিলেন। বাড়িতে স্ত্রী, দুই সন্তান রয়েছে। তাঁর বুথে মোট ভোটার ১১৯১ জন। তার মধ্যে বিবেচনাধীন তালিকা ছিল ১২৯ জনের নাম। সাপ্লিমেন্টারি তালিকা বেরলে দেখা যায়, ৯৪ জনের নাম বাদ গিয়েছে। জানা গিয়েছে, বাদ যাওয়া ভোটাররা তাঁর কাছে এসে বলতেন, তাঁরা সমস্ত নথি জমা দিয়েছেন। তারপরও কেন নাম বাদ গেল? পরিবারের বক্তব্য, এই মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে মণিরুলের। শনিবার সকাল দশটায় নির্বাচন কমিশনের থার্ড পোলিং অফিসার হিসেবে তাঁর ট্রেনিং হওয়ার কথা ছিল। তার আগেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল মণিরুলের।
আজিজুর রহমান নামে মৃতের এক সহকর্মী বলেন, “এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ও দুর্ভাগ্যজনক। আগেও এসআইআর হয়েছে। কিন্তু, এবার যেভাবে এসআইআর হচ্ছে, তা ভাবা যাচ্ছে না। আমাদের সহকর্মী ছিলেন। সবসময় চেষ্টা করতেন, যাতে কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ না যায়। তারপরও নাম বাদ গিয়েছে। এই নিয়ে চাপে ছিলেন।” বিএলও-র উপর চাপ দেওয়া হত কি না, এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁরাও চিন্তায় রয়েছেন। সেজন্য তাঁরাও বিএলও-র কাছে এসে জানতে চাইতেন, কেন তাঁদের নাম বাদ পড়েছে? স্বাভাবিকভাবে মানসিক চাপ বেড়েছিল।”
তৃণমূল পরিচালিত আমুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান মহম্মদ ইমদাদুল হক বলেন, “৯৪ জনের নাম অনৈতিকভাবে বাদ দেওয়া হয়েছিল। এতে উনি ভেঙে পড়েন। আমরা তাঁকে চিন্তা করতে বারণ করেছিলাম। বিজেপি সরকারের স্বৈরাচারী চিন্তাভাবনার জন্য মানুষের জীবন নিয়ে টানাটানি শুরু হয়েছে। মানুষের এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা দরকার।” মৃতের পরিবারের পাশে তৃণমূল রয়েছে বলে তিনি জানান।