
কলকাতা: লগ্নজিতা, স্নিগ্ধজিৎ, এবার মিমি! এবার স্টেজে লাইভ পারফরম্যান্সের মাঝেই অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীকে হেনস্থার অভিযোগ। স্টেজ থেকে নেমে যেতে বলা হল তাঁকে। অভিযোগ, এক উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে, যিনি পেশায় একজন জ্যোতিষী।
রবিবার বনগাঁর নয়াগ্রামে একটি অনুষ্ঠান ছিল মিমি চক্রবর্তীর। উদ্যোক্তা নয়াগোপাল গুঞ্জ যুবক সঙ্ঘ ক্লাব। রাত পৌনে বারোটায় স্টেজে উঠেছিলেন মিমি চক্রবর্তী। অভিযোগ, অনুষ্ঠানের মাঝেই তনয় শাস্ত্রী নামে এক ব্যক্তি স্টেজে উঠে পড়েন। মিমির গানের মাঝে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। মিমিকে তিনি স্টেজ থেকে নেমে যেতে বলেন। তাতে অপমানিত বোধ করেন মিমি। অভিযুক্ত তনয় শাস্ত্রী ক্লাবেরই কর্মকর্তা বলে জানা গিয়েছে। বনগাঁ থানায় এফআইআর দায়ের করেন মিমি। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
ঘটনার পর TV9 বাংলার প্রতিনিধি যোগাযোগ করেছিলেন মিমি চক্রবর্তীর সঙ্গে। মিমির কথায়, “আমি স্টেজে পারফর্ম করছিলেন, হঠাৎ তিনি এসে বলেন, আপনি চলে যান। আমি প্রথমে বুঝতেই পারিনি, উনি আমাকে বলছিলেন। আমি ওনার দিকে তাকাই, উনি আবারও বলেন, হ্যাঁ, আপনি চলে যান। নেমে যান স্টেজ থেকে। আমি তখন সবে পারফর্ম করা শুরু করেছিলাম, তখনই এসে বলে। আমি বেরিয়ে থানার আইসি-কে ফোন করি। এফআইআর করা হয়।”
মিমির প্রতিক্রিয়া
ফোনে মিমি বলেন, “আমার কেরিয়ারে এটা প্রথমবার হল। এতটা ঔদ্ধত্য আমি আমার কেরিয়ারে কোনও কর্মকর্তার মধ্যে দেখিনি। একজন শিল্পী যখন আজকাল স্টেজে ওঠেন, তখন মানুষ ভাবতে শুরু করেছেন, সেই শিল্পী তাঁর প্রপার্টি হয়ে গিয়েছেন। চুপ করে থাকার প্রশ্নই নেই।” তাঁর বক্তব্য, তিনি যদি এই পদক্ষেপ না করতেন, তাহলে তাঁদের মতো বাকি কর্মকর্তারাও একই ধরনের আচরণ করতে পারেন। মিমির বার্তা, “আমি যদি এটা ফেস করতে পারি, অন্য কোনও মেয়ে যদি শো করতে যান, তাহলে একটু সচেতন হন।”
ক্লাবের কর্মকর্তার বক্তব্য
তবে আয়োজক সংস্থার বক্তব্য, নির্ধারিত সূচির ১ ঘণ্টা দেরিতে শুরু হয়েছিল অনুষ্ঠান। আর সেই কারণেই শিল্পীকে নামতে বলা হয়েছিল। অনুষ্ঠানের আয়োজক অজয় বণিক বলেন, “আমরা আসলে প্রশাসন থেকে সময় পেয়েছিলাম ১২ টা পর্যন্ত। ম্যাডাম এসেছেন, সাড়ে ১১টায়, স্টেজে উঠেছিলেন পৌনে ১২টায়। আমাদের যেহেতু ১২ টা পর্যন্ত সময় ছিল, তাই বলতে হয়েছে। পাড়ায় কমপ্লেন যেতে পারত। ম্যাডাম প্রোগ্রাম করেছেন, সময় কমেছে।” মিমিকে বলা অভিযুক্তের মন্তব্য প্রসঙ্গে বলেন, “উনি যদি বলে থাকেন, সেটা ঠিক নয়। আমি পাশেই ছিলাম। তবে হয়তো উনি ওভাবে বলতে চাননি। তবে অত বড় একজন শিল্পী, ব্যক্তিত্ব, ওঁর খারাপ লাগতেই পারে। অসম্মানজনক হতেই পারে। তবে আমার মনে হয় না ওরকম কিছু হয়েছে। তবে যাই হয়েছে, আমরা ক্লাবের পক্ষ থেকে ক্ষমাপ্রার্থী।”
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই পূর্ব মেদিনীপুরে একটি স্কুলের অনুষ্ঠানে গান গাইতে গিয়ে হেনস্থার শিকার হয়েছিলেন শিল্পী লগ্নজিতা চক্রবর্তী। অভিযুক্ত উদ্যোক্তাদেরই একজন, যিনি আবার এলাকার তৃণমূল নেতা। তারপর মেদিনীপুরে একইরকম ভাবে স্টেজে এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ধাক্কা মারার অভিযোগ ওঠে। স্টেজেই ফুঁসে উঠেছিলেন স্নিগ্ধজিৎ!