
বসিরহাট: বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই শক্তি বাড়াচ্ছে কংগ্রেস। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের রাজনৈতিক মানচিত্রে বড়সড় রদবদল। তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে ‘গোপন আঁতাত’-এর অভিযোগ তুলে দুই শিবিরেই ব্যাপক ভাঙন। বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের শতাধিক কর্মী-সমর্থক এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করলেন কংগ্রেসে। তালিকায় রয়েছেন বিজেপির এক ওয়ার্ড সভাপতিও। তা নিয়েও চলছে চর্চা। চাপ বাড়ছে শাসক শিবিরে, চাপ বাড়ছে রাজ্যের মূল বিরোধী শিবিরেও।
শনিবার বসিরহাটেরই একটি প্রেক্ষাগৃহে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এক বিশেষ কর্মী সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানেই এই দলবদলের ছবি দেখা যায়। বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে এই গণ-যোগদান স্থানীয় স্তরের রাজনৈতিক সমীকরণ অনেকটাই ওলটপালট করে দিল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বড় অংশ। যেখানে ঘাসফুল, পদ্ম ঝড়ে তপ্ত বঙ্গ, সেখানে আচমকা হাতের শক্তি বৃদ্ধি নিয়েই স্বভাবতই শুরু হয়েছে জোরদার চর্চা।
কেন এই দলবদল?
দলত্যাগীদের পক্ষ থেকে তোলা হয়েছে বিস্ফোরক অভিযোগ। তাঁদের দাবি তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে তলে তলে আঁতাত রয়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের জনবিরোধী নীতি সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে। উভয় দলেই দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তাঁরা মোহভঙ্গ হওয়ার কথা জানান। সে কারণেই এখন মানুষের অধিকার রক্ষা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করার একমাত্র বিকল্প হিসেবে তাঁরা জাতীয় কংগ্রেসকেই বেছে নিয়েছেন। তবে ভোটের মুখে বিজেপির ওয়ার্ড সভাপতি থেকে শুরু করে তৃণমূলের সক্রিয় কর্মীদের এই দলবদল বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভায় কংগ্রেসের সাংগঠনিক ক্ষমতাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল। এমনটাই মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।