
বাগদা: উনিশের লোকসভা নির্বাচন। কিংবা একুশের বিধানসভা ও চব্বিশের লোকসভা নির্বাচন। মতুয়া সম্প্রদায়ের একটা বড় অংশের ভোট বিজেপি পেয়েছে। এই আবহে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে মতুয়া সম্প্রদায়ের এক নেতাকে বঙ্গভূষণ সম্মান প্রদান করল রাজ্য সরকার। মতুয়া সমাজের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য বঙ্গভূষণ সম্মাননা পেলেন বাগদার মৃণাল গোঁসাই।
উত্তর ২৪ পরগনার বাগদার হেলেঞ্চার বাসিন্দা মৃণাল গোঁসাই ( বিশ্বাস ) । পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পিএইচই বিভাগে কাজ করতেন। ২০১৫ সালে অবসর নেন। কর্মজীবনের শুরুতে ১৯৮৭ সাল থেকেই মতুয়া সমাজের অগ্রগতির জন্য কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে বাগদার বৈকোলাতে হরি গুরুচাঁদ ভক্ত সেবা সংঘ নামে সংস্থা তৈরি করেন। এখানে হরিচাঁদ মন্দির দাতব্য চিকিৎসালয় তৈরি করেন এবং স্কুল নির্মাণের জন্য ভবনা তৈরি করেছেন বছর বাহাত্তরের মৃণাল।
২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফ থেকে বঙ্গভূষণ সম্মাননা দেওয়ার জন্যে মতুয়া গোঁসাই মৃণাল বিশ্বাসকে বেছে নেওয়া হয়। ২১ ফেব্রুয়ার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মৃণাল গোঁসাই-র হাতে বঙ্গভূষণ সম্মাননা তুলে দেন। বঙ্গভূষণ সম্মাননা পেয়ে বাড়ি ফিরতেই রবিবার সকাল থেকে মতুয়া ভক্তরা বাড়ি আসতে শুরু করেন। ডঙ্কা বাজিয়ে ফুলের মালা পরিয়ে আনন্দে মেতে ওঠেন মতুয়া ভক্তরা। পরিবারের পক্ষ থেকে মিষ্টি মুখ করানো হয় মৃণাল গোঁসাইকে।
বঙ্গভূষণ সম্মাননা পেয়ে মৃণাল গোঁসাই জানিয়েছেন, “আমি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞ। হরিচাঁদ ঠাকুর গুরুচাঁদ ঠাকুরের আদর্শ মেনে মতুয়া সমাজের অগ্রগতির জন্য কাজ করেছি। সরকার বিচার করে বঙ্গভূষণ সম্মানে সম্মানিত করবার জন্য দায়িত্ব আরও বেড়ে গিয়েছে।” সরকারের এক লক্ষ টাকার আর্থিক অনুদান মতুয়াদের উন্নয়নে ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে মৃণাল গোঁসাই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বঙ্গভূষণ সম্মাননা পাওয়ার জন্য মতুয়া ভক্ত অনুপম বিশ্বাস জানিয়েছেন, “আমাদের বলার ভাষা নেই। হরিচাঁদ ঠাকুরের নীতি আদর্শ মেনে মৃণাল গোঁসাই একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। পশ্চিমবঙ্গ সরকার স্বীকৃতি দেওয়ায় আমরা আনন্দিত।”