
উত্তর ২৪ পরগনা: নিপা ভাইরাস নিয়ে ক্রমেই উদ্বেগ বাড়ছে। অত্যন্ত আশঙ্কাজনক রয়েছে কাটোয়ার নার্স। তাঁর শরীরে নিপা ভাইরাসের হদিশ মেলে। বারাসতের বেসরকারি হাসপাতালের ভেন্টিলেশনে রয়েছেন তিনি। তাঁর সঙ্গেই ভেন্টিলেশনে রয়েছেন নিপা আক্রান্ত আরও একজন। নজরদারি, নমুনা সংগ্রহ, বেড প্রস্তুতির প্রোটোকল তৈরি করেছে কেন্দ্র। ইতিমধ্যেই বারাসতের ওই বেসরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন রাজ্য ও কেন্দ্রের স্বাস্থ্য দফতরের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দল। নার্সের সংস্পর্শে আসা ১৪ জনের নমুনা পাঠানো হয়েছে এইমস-এ। কাটোয়া ও বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেরও বহু ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, কাটোয়ার ওই মহিলা নার্সের অবস্থা বেশ সঙ্কটজনক। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তিনি কোমাতে চলে গিয়েছেন। তবে মেল নার্সের শারীরিক অবস্থার অনেকটা উন্নতি হয়েছে। তিনি ভেন্টিলেশনে রয়েছেন, তবে তিনি চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন।
জানা যাচ্ছে, মঙ্গলবার দুপুরের পর ওই হাসপাতালের একজন RMO একই রকমের উপসর্গ নিয়ে আসেন। তিনিও ওই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন। তাঁর রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। যাঁরা যাঁরা ওই দুই নার্সের সংস্পর্শে এসেছিলেন, তাঁদের প্রত্যেকের নমুনা নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালেরই ২২ জন স্টাফকে কোয়ারেন্টাইন করে রাখা হয়েছে। তবে এই সংখ্যাটা আরও বাড়তে পারে বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর। পাশাপাশি ওই হৃদয়পুরে ওই নার্স মেসবাড়িতে ভাড়া থাকতেন। মহিলা নার্সের বাড়ি কাটোয়ায়। তিনি প্রথমে কাটোয়া হাসপাতালেই চিকিৎসা করান, তার জেরে সেখানেও তাঁর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তি সহ মোট ৮ জনকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। কাটোয়া হাসপাতালের পর তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানেও বেশ কয়েকদিন চিকিৎসা চলে তাঁর। বর্ধমান মেডিক্যালের ৪৮ জনকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। তাঁদেরও কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে বলে খবর। পাশাপাশি কলকাতা নাইসেড ও স্কুল অফ ট্রপিক্যালে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। বেলেঘাটা আইডিতে আইসোলেশন ওয়ার্ড তৈরি রেখেছে স্বাস্থ্যভবন।