
বনগাঁ: জনসভায় পাঠানোর মতো লোক মেলে না, কষ্টের টাকায় বাস ভাড়া করে আবার টাকাও মেলে না। পাশে বসে পার্থ ভৌমিক। সেই সময় দলের ভরা সভায় এই কথা বললেন তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন INTUC-এর জেলা সভাপতি নারায়ণ ঘোষ।
আগামী ১৯ তারিখ বারাসতে জনসভা রয়েছে তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড তথা সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের। রবিবার সেই মর্মেই বনগাঁ টাউন হলে একটি প্রস্তুতি সভার আয়োজন করেছিল তৃণমূল। তাতে যোগ দিয়েছিলেন ব্যারাকপুরে সাংসদ পার্থ ভৌমিক, বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস, শ্রমিক সংগঠনের জেলা সভাপতি নারায়ণ ঘোষ-সহ একাধিক নেতা-কর্মী।
ওই মঞ্চেই ভাষণ দিতে উঠেছিলেন নারায়ণ ঘোষ। প্রস্তুতি পর্বেই সভায় লোক টানা নিয়ে তৈরি হওয়া সমস্য়ার কথা তুলে ধরেন তিনি। মনে করিয়ে দেন, না-পাওয়া বাস ভাড়ার কথাও। শ্রমিক নেতার কথায়, ‘পার্থদার (ব্য়ারাকপুরের সাংসদ) নির্দেশে আমি সব জায়গায় বাস পাঠাই। এবার না হয় বাস তো পাঠালাম, টাকাও দূরের কথা। কিন্তু দেখছি তাতে লোক উঠছে না, তাই বাস ফেরত আসছে।’
এরপরেই দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন তিনি। দল বাসের টাকা দিচ্ছে না বলেই অভিযোগ তোলেন। নারায়ণ ঘোষের কথায়, ‘বাস ভাড়ার টাকা যদি চাইতে যাই, তখন কিছু বলে না। আমার কি টাকার খনি রয়েছে? টাকা নিয়ে কেউ কিছু বলে না। আমি তো সামান্য ট্রেড ইউনিয়ন করি। বাস নিয়ে যেতে কি টাকা লাগে না? আমি টাকা না দিতে পারলে, মালিকরা তো আমাকে পেটাবে?’
শ্রমিক নেতার তুলে ধরা ক্ষোভ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল পার্থ ভৌমিককে। তাঁর দাবি, চাঁদা তুলেই টাকা মেটাতে হবে, এটাই নাকি দলের নিয়ম! সাংসদের কথায়, ‘আমাদের দলের নিয়মই এটা। আমরা যাঁরা দল করি, তাঁরা প্রত্যেকেই চাঁদা তুলে দলের কর্মসূচির জন্য় গাড়ি ভাড়া করি। উনি (নারায়ণ ঘোষ) দলের দায়িত্বে রয়েছেন। ওনাকেও সেটাই করতে হবে।’