
বাগদা: এক অভিভাবক এসেছিলেন স্কুলে সন্তানের সার্টিফিকেট নিতে। কিন্তু তাঁকে এমন ভয়াবহ ঘটনার সাক্ষী থাকতে হবে হয়ত ভাবতেও পারেননি। স্কুলের অফিস ঘরের মধ্যে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকের। আর তা নিজের চোখে দেখলেন অভিভাবক। জানা যাচ্ছে এবার তিনি বিএলও-র দায়িত্ব পেয়েছিলেন। বিএলও-র কাজের চাপে আত্মহত্যার চেষ্টা দাবি পারিবারের। গুরুতর অবস্থায় ভর্তি বনগাঁ মহাকুমা হাসপাতালে।
উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা ব্লকের পাথুরিয়া ৩০ নম্বর পার্টের বিএলও হিসাবে নিযুক্ত রয়েছেন পাথুরিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সরজিত হালদার। তাঁর বাড়ি বাগদার পারমাদন এলাকায়। সোমবার সকালে টিউশন পড়িয়ে স্কুলে আসেন তিনি। এরপর ১০টা বেজে ১৫ মিনিট নাগাদ একজন অভিভাবক তাঁর সন্তানের জন্য চতুর্থ শ্রেণি পাসের সার্টিফিকেট নিতে এসেছিলেন। সেই সময় তিনি দেখেন স্কুলেরই অফিস রুমের ভিতরে ফ্যানের সঙ্গে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলে রয়েছেন সরজিতবাবু। আঁতকে ওঠেন তিনি। চিৎকার করে সকলে ডাকাডাকি করেন। এরপর প্রতিবেশীরা পরিবারকে খবর দেয়। তাঁকে উদ্ধার করে বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পরিবারের দাবি, এসআইআর নিয়ে চাপের কারণে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন তিনি। বাড়িতে নাকি ওই শিক্ষক মাঝে মধ্যেই বলতেন, ‘আমার কিছু হয়ে গেলে ছেলেটাকে দেখো’।
বাগদা পশ্চিম ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি নিউটন বালা বলেন, “এসআইআর-এর চাপ সইতে না পেরেই এই ঘটনা ঘটিয়েছে। আগেও তিনি এই চাপের কথা জানিয়েছিলেন। নির্বাচন কমিশনের কারণেই আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন।” অপরদিতে, বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা বিজেপি সভাপতি বিকাশ ঘোষ বলেন, “পারিবারিক অশান্তি এবং আর্থিক দেনার চাপেই আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন।”