Madhyamgram: ট্রলিতে মৃতদেহ, তার নামেই পরদিন কেনা হল লক্ষ লক্ষ টাকার সোনা
Madhyamgram: বৃহস্পতিবার ঘটনার পুনর্নির্মাণের পর আহিরীটোলা থেকে মধ্যমগ্রাম থানার পুলিশ ধৃতদের নিয়ে যায় বউবাজারের একটি সোনার দোকানে। সেখানে সুমিতার গয়না বিক্রি করে ৪২ হাজার টাকা পেয়েছিলেন আরতি ও ফাল্গুনী। আবার সেই টাকা নিয়ে অন্য একটি দোকানে গিয়ে নতুন গয়না অর্ডার দেন সুমিতারই নামে। নতুন গয়না তৈরির অর্ডার দিয়েছিলেন ২ লক্ষ ৫৩ হাজার টাকার।

মধ্যমগ্রাম: মধ্যমগ্রামে পিসি শাশুড়িকে খুনের ঘটনায় আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য পুলিশের হাতে। আচমকা নয়, সম্পূর্ণ প্ল্যান করে খুন করা হয় সুমিতা ঘোষকে। যেদিন তাঁকে খুন করা হয়, তার পরদিনই অর্থাৎ গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সুমিতা ঘোষের অসম চলে যাওয়ার কথা ছিল। সেই টিকিটের হদিস পেয়েছে পুলিশ। তদন্তকারীদের ধারণা, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি (রবিবার) সন্ধ্যায় সুমিতাকে খুনের পর ধৃত আরতি ঘোষ ও তাঁর মেয়ে ফাল্গুনী ভেবেছিলেন, সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) পেরিয়ে গেলে সুমিতা ঘোষের মৃত্যুর জন্য তাঁরা দায়ী থাকবেন না। এমনটা ভেবেই দেহ সরাতে ব্যস্ত ছিলেন তাঁরা।
গতকাল (বৃহস্পতিবার) ঘটনার পুনর্নির্মাণের পর আহিরীটোলা থেকে মধ্যমগ্রাম থানার পুলিশ ধৃতদের নিয়ে যায় বউবাজারের একটি সোনার দোকানে। সেখানে সুমিতার গয়না বিক্রি করে ৪২ হাজার টাকা পেয়েছিলেন আরতি ও ফাল্গুনী। আবার সেই টাকা নিয়ে অন্য একটি দোকানে গিয়ে নতুন গয়না অর্ডার দেন সুমিতারই নামে। নতুন গয়না তৈরির অর্ডার দিয়েছিলেন ২ লক্ষ ৫৩ হাজার টাকার। তাঁর মধ্যে সুমিতার মোবাইল থেকে অনলাইনে পঞ্চাশ হাজার টাকা অগ্রিম জমা দেন তাঁরা। ওই গয়নার বিল সুমিতার নামেই হয়। যখন এই বিল হচ্ছে, তখন সুমিতা ঘোষ মৃত অবস্থায় মধ্যমগ্রামের বাড়িতে পড়েছিলেন। আবার ওইদিনই তাঁর অসম চলে যাওয়ার কথা। তদন্তকারীরা বলছেন, দেহ যদি ঠিক করে সরিয়ে দিতে পারতেন ধৃতরা, তাহলে সুমিতার সঙ্গে তাঁদের কানেকশন সোমবারই শেষ হয়ে যেত।
প্রসঙ্গত, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি আহিরীটোলা ঘাটে একটি ট্রলিব্যাগে সুমিতার দেহ চার টুকরো করে নিয়ে এসেছিলেন আরতি ও ফাল্গুনী। স্থানীয় বাসিন্দাদের ওই ট্রলিব্যাগ দেখে সন্দেহ হয়। তাঁরা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তখনই মা-মেয়ের বক্তব্যে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পুলিশ ডাকা হয়। তারপরই পুরো ঘটনা ফাঁস হয়। গ্রেফতার করা হয় আরতি ও ফাল্গুনী। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে। বৃহস্পতিবার রাতে ধৃত আরতি ঘোষ ও তাঁর মেয়ে ফাল্গুনী ঘোষকে বারাসত ওমেন থানায় নিয়ে এসে রাখা হয়।

