Asansol: পোড়া ঘরে ভয়ঙ্কর দৃশ্য, মা-ছেলেকে দেখে শিউরে উঠলেন সবাই
Son killed mother: স্ত্রী ও পুত্রকে হারিয়ে মুষড়ে পড়েছেন দয়াময় মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, "বুধবার আমার ছেলে আমায় বেধড়ক মারধর করে। ভয়ে আমি মেয়ের বাড়ি পালিয়ে যাই। তারপর এই ঘটনা ঘটেছে।" নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করায় ছেলের কাছে বন্দুক থাকত বলে তিনি জানিয়েছেন।

আসানসোল: ছেলের মারধরে বাড়ি ছেড়ে মেয়ের বাড়িতে চলে গিয়েছিলেন বাবা। বাড়িতে শুধু ছিলেন মা ও ছেলে। তারপরই পারিবারিক অশান্তির জেরে নৃশংস ঘটনা পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলে। মাকে গুলি করে ঘরে আগুন লাগিয়ে তারপর নিজেকে গুলি করে আত্মঘাতী হলেন ছেলে। গতকাল রাতে ঘটনাটি ঘটেছে আসানসোলের কুলটি থানার কলেজ রোডের রামকৃষ্ণ সরণিতে।
ঘটনার সূত্রপাত বুধবার। পরিবারের কর্তা দয়াময় মুখোপাধ্যায় জানান, কিছুটা মানসিক অসুস্থ ছিলেন ছেলে রাজা মুখোপাধ্যায়। প্রায় ছোট ছোট বিষয় নিয়ে ঝগড়া বিবাদ হত। বেসরকারি সংস্থায় বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করতেন বছর পঞ্চাশের রাজা। বুধবার পারিবারিক বিবাদের কারণে রাজা তাঁর বয়স্ক বাবা দয়াময়কে মারধর করেন। প্রাণে বাঁচতে দয়াময় পুরুলিয়ার কাশীপুরে তাঁর মেয়ের বাড়ি চলে যান।
বৃহস্পতিবার আবার অশান্তি শুরু হয় রাজা ও তাঁর মা সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের মধ্যে। তারপরই ঘটে এই ঘটনা। আগুনের খবর পেয়ে আসে কুলটি থানার পুলিশ ও দমকল। দমকলের একটি ইঞ্জিন আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। ঘরেই গুলিবিদ্ধ ও অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় সন্ধ্যার। আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজাকে আসানসোল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
স্ত্রী ও পুত্রকে হারিয়ে মুষড়ে পড়েছেন দয়াময়। তিনি বলেন, “বুধবার আমার ছেলে আমায় বেধড়ক মারধর করে। ভয়ে আমি মেয়ের বাড়ি পালিয়ে যাই। তারপর এই ঘটনা ঘটেছে।” নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করায় ছেলের কাছে বন্দুক থাকত বলে তিনি জানিয়েছেন।
এলাকার কাউন্সিলর চৈতন্য মাজি বলেন, “খুবই দুঃখজনক ঘটনা। ওই পরিবার আগে আমার সঙ্গে অনেকবার যোগাযোগ করেছে। কিন্তু, এবার ছেলে মারধর করার পর আমাকে কিছু জানায়নি। এখন ঘটনাটি জানলাম। পুলিশ সবদিক খতিয়ে দেখুক।”
