
দুর্গাপুর: মনোরঞ্জন মণ্ডল! সকাল থেকে এই নাম সংবাদ শিরোনামে। পেশায় পুলিশ কর্তা। তিনিই এখন ইডি-র আতস কাচের নীচে। কয়লা পাচার মামলায় কোটি কোটি টাকার লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। কিন্তু কে এই মনোরঞ্জন মণ্ডল? বর্তমানে তিনি বুদবুদ থানার ওসি! তবে এই মামলায় এই প্রথম নয়, ২০২৪ সালেও তিনি একবার সাসপেন্ড হয়েছিলেন। বারাবনি পুলিশ স্টেশনের সাব-ইনস্পেক্টর ও অফিসার-ইন-চার্জ (OC) হিসাবে দায়িত্বে ছিলেন। সে সময়ে তাঁকে অপেশাদার আচরণ ও কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট কর্তৃক সাসপেন্ড করা হয়েছিল।
কিন্তু এর নেপথ্য়ে আরও একটি কারণ রয়েছে। পুলিশেরই একাংশের মতে, মনোরঞ্জন খোদ একেবারে উঁচুতলার নজরে পড়ে গিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর! নবান্নে পুলিশের নীচুতলার একাংশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছিলেন খোদ পুলিশমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি কার্যত নিজেই স্বীকার করে নিয়েছিলেন, কয়লা এবং বালি পাচারের মতো অবৈধ কারবারে সাহায্য করছে পুলিশের নীচুতলার একাংশ। সূত্রের খবর, সে সময়েই নজরে পড়ে গিয়েছিলেন মনোরঞ্জন। পুলিশমন্ত্রী সতর্ক করে দিয়েছিলেন, কোনওভাবেই তিনি পুলিশের একজনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও বরদাস্ত করবেন না। বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। সে সময়েই আসানসোল-দুর্গাপুরের পুলিশ কমিশনার সুনীল কুমার চৌধুরি বারাবনি থানার এসআই-এর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তখন সাসপেন্ড হয়েছিলেন মনোরঞ্জন।
সাসপেনশনে থাকাকালীন তিনি অর্ধেক বেতন পেতেন। সম্প্রতি তিনি বুদবুদ থানায় ওসি হিসাবে কর্মরত। এখন আবার তাঁর বিরুদ্ধে কয়লা পাচারের কোটি কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। তবে এবার ইডির আতস কাচের নীচে। মঙ্গলবার সকাল থেকে মনোরঞ্জন মন্ডলের দুর্গাপুরের অম্বুজা টাউনসিপের বাড়িতে তল্লাশি শুরু করেছেন ইডি আধিকারিকরা।