
আসানসোল: মোবাইলে মেসেজ আসছে ‘গ্যাস ডেলিভারড’, কিন্তু বাস্তবে রান্নাঘরে নেই সিলিন্ডার! ডিজিটাল জালিয়াতি নাকি সরাসরি কালোবাজারি? রানিগঞ্জে এইচপি গ্যাস ডিলার মিলন কান্তি মণ্ডলের এজেন্সিকে ঘিরে তুলকালাম। গত কয়েকদিন ধরে বুকিং করেও মিলছে না গ্যাস, অথচ অ্যাপে দেখাচ্ছে ডেলিভারি হয়ে গেছে। আজ রবিবার সকালে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন গ্রাহকরা।
রবিবার ছুটির দিনে সকাল থেকেই উত্তপ্ত আসানসোলের রানিগঞ্জ। অভিযোগের তির, স্থানীয় এইচপি গ্যাস ডিলার মিলন কান্তি মণ্ডলের এজেন্সির বিরুদ্ধে। গ্রাহকদের দাবি, গত কয়েকদিন ধরেই রান্নার গ্যাসের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছেন তাঁরা। রাত থেকে বা কাকভোরে লাইনে দাঁড়িয়েও দিনের শেষে মিলছে শুধু আশ্বাস আর দোকান বন্ধের নোটিস।
সমস্যার এখানেই শেষ নয়, এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রহস্যময় ‘ডেলিভারি মেসেজ’। গ্রাহকদের অভিযোগ, সিলিন্ডার হাতে না পেলেও মোবাইলে মেসেজ চলে আসছে যে গ্যাস ডেলিভারি হয়েছে। এইচপি অ্যাপে দেখা যাচ্ছে গ্যাস রিসিভড, অথচ গ্রাহকের বাড়িতে উনুন জ্বলছে না। এই ডিজিটাল গরমিলের নেপথ্যে বড় কোনও চক্র বা কালোবাজারির গন্ধ পাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এজেন্সির সামনে টানানো হয়েছে বোর্ড— ‘আজ গ্যাসের গাড়ি আসেনি।’ ডিলারের পক্ষ থেকে কোনও সদুত্তর না মেলায় দীর্ঘক্ষণ চলে বিক্ষোভ। বিক্ষোভকারী এক গ্রাহক বলেন, “অবিলম্বে এই অনিয়ম বন্ধ করে প্রকৃত গ্রাহকদের হাতে সিলিন্ডার পৌঁছে দিতে হবে, নতুবা আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।” আরেক গ্রাহক হরিশ কেদিয়া বলেন, “আমরা তো এই ধরনের কিছু হতে পারে, ভাবতেই পারছি না। ডেলিভারড মেসেড মানে, গ্যাস এসে গিয়েছে। কিন্তু কোথায় আমার গ্যাস? ডেলিভারড দেখাচ্ছে মানে, গ্যাস আসছে, কিন্তু সেই সিলিন্ডার কোথায় যাচ্ছে? আমি তো অ্যাপে গিয়েও দেখলাম।” HP গ্যাস ডেলিভারি অফিসে গিয়ে দেখা গেল তালা বন্ধ। কোনও কর্মী-আধিকারিকেরই খোঁজ পাচ্ছেন না গ্রাহকরা।