
আসানসোল: সত্যজিৎ রায়ের ‘সোনার কেল্লা’ সিনেমায় মন্দার বোসের চরিত্র বলেছিল, ‘হাজার হাজার ডক্টর হাজরা’। আসানসোল উত্তর বিধানসভায় অবশ্য তিন কৃষ্ণেন্দুকে নিয়ে ধন্দ বেধেছে। নির্বাচনী আধিকারিকের স্ক্রুটিনি টেবিল থেকে যখন প্রার্থীদের তালিকা বেরোল, তখন চক্ষু চড়কগাছ সবার। লড়াই হবে মলয় ঘটকের সঙ্গে কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়ের, সেটা তো জানা কথা। কিন্তু তালিকায় দেখা যাচ্ছে কৃষ্ণেন্দুর সংখ্যা এক নয়, দুই নয়-একেবারে তিন। হ্যাঁ, একদম ঠিক পড়ছেন। আসানসোল উত্তর বিধানসভা আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিন জন কৃষ্ণেন্দু।
আসানসোল উত্তর বিধানসভা আসনে প্রার্থী তালিকার দিকে নজর দিলে দেখা যাবে, ১৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তৃণমূলের প্রার্থী মলয় ঘটক। বিজেপি প্রার্থী কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়। রাজনীতির কারবারিরা বলছেন, মূল লড়াই কার্যত এই দু’জনের মধ্যেই। বামফ্রন্টের প্রার্থী অখিলেশ কুমার সিং। এবং কংগ্রেসের টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন প্রসেনজিৎ পুইতন্ডি।
এছাড়াও মিম-সহ আরও ১০ জন প্রার্থী রয়েছেন। আর সেখানেই রয়েছেন দুই কৃষ্ণেন্দু। নির্দল প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তাঁরা। একজন কৃষ্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়। অন্যজন কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়। নির্দল প্রার্থী কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় পেশায় আইনজীবী। তিনি ঘাসফুল শিবিরের ঘনিষ্ঠ বলেই শোনা যাচ্ছে। আর দ্বিতীয় নির্দল প্রার্থী কৃষ্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায় বিদায়ী মন্ত্রীর ‘খাস’ লোক বলে পরিচিত।
দুই নির্দল কৃষ্ণেন্দুর প্রার্থী হওয়ার পিছনে চক্রান্ত দেখছে পদ্মশিবির। বিজেপি প্রার্থী কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়ের সাফ কথা, “এটা একটা নোংরা ষড়যন্ত্র। ভোটারদের গুলিয়ে দিতেই এই ডামি প্রার্থীর আমদানি। এই নোংরা বিষয় কার মাথা থেকে বেরিয়ে আসতে পারে, আসানসোল উত্তরের মানুষ জানেন। এইরকম ভাবার কোনও কারণ নেই যে মানুষ কোনটা ঠিক কোনটা ভুল মানুষ বিচার করতে পারবেন না। আসানসোল উত্তরের মানুষ পদ্মফুল প্রতীক দেখেই ভোট দেবেন।”
তৃণমূল অবশ্য এই অভিযোগ পাত্তা দিচ্ছে না। তৃণমূলের উত্তর আসানসোলের ব্লক সভাপতি গুরুদাস চট্টোপাধ্যায়ের যুক্তি, নাম এক হলেও প্রতীক তো আলাদা। যদি সংগঠন শক্ত হয়, তবে লোকে প্রতীকেই ভোট দেবে। অর্থাৎ, নাম যাই হোক, দিনশেষে পদ্ম আর জোড়া ফুলের লড়াইটাই আসল।
মজার বিষয় হল, দুই নির্দল কৃষ্ণেন্দু এখন যেন উধাও। সংবাদমাধ্যম তাঁদের প্রতিক্রিয়া নিতে গেলেই তাঁরা ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’। আইনজীবী কৃষ্ণেন্দুবাবু হোক কিংবা মলয়-ঘনিষ্ঠ কৃষ্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়, কারও দেখা মিলছে না। রাজনৈতিক মহলের মতে, আসানসোল উত্তর এবার ‘নেম গেম’-এ গোল দিচ্ছে বাকিদের। ভোটবাক্সে এর কোনও প্রভাব পড়ে কি না, সেটাই এখন দেখার।