AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Bipin Master: কেউ কেউ ভালোবেসে ১০-২০ টাকা দেয়, নিজে উচ্চমাধ্যমিক পাশ না করলেও আজ বিপিনের চোখ দিয়েই স্বপ্ন দেখে গোটা গ্রাম

নিজের উদ্যোগে ২০১৯ সাল থেকে গ্রামে খুলে বসেছেন পাঠশালা। এক সময় গাছের তলায় ব্লাকবোর্ড নিয়ে চলত পড়াশোনা। এখন গ্রামের একটি ক্লাবে মিলেছে জায়গা। যে পাঠশালার নাম সকলের মুখে মুখে ‘বিপিন বাবুর পাঠশালা’ বলেই পরিচিত হয়ে উঠেছে। কেউ ডাকেন বিপিন দা, কেউ ডাকেন বিপিন মাস্টার।

Bipin Master: কেউ কেউ ভালোবেসে ১০-২০ টাকা দেয়, নিজে উচ্চমাধ্যমিক পাশ না করলেও আজ বিপিনের চোখ দিয়েই স্বপ্ন দেখে গোটা গ্রাম
বিপিনের স্কুলImage Credit: TV9 Bangla
| Edited By: | Updated on: Oct 07, 2026 | 3:50 PM
Share

পশ্চিম মেদিনীপুর: নিজে উচ্চমাধ্যমিক দিতে পারেননি। তবুও আদিবাসী গ্রামের কচিকাঁচাদের বিনেপয়সায় শিক্ষার আলো দেখাচ্ছেন বিপিন মাস্টার। সমাজ থেকে কুসংস্কার দূর করা এবং এলাকার ছেলেমেয়েদের শিক্ষার আলোয় নিয়ে আসাই একমাত্র লক্ষ্য বিপিন হেমব্রমের। দিন আনা দিন খাওয়া পরিবারের ছেলে।

মাধ্যমিকের পর দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করলেও অসুস্থতা ও আর্থিক অনটনের কারণে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়া হয়নি। কিন্তু যেটুকু শিক্ষা রয়েছে, সেই শিক্ষা দিয়েই গ্রামের কচিকাঁচাদের শিক্ষার প্রথম ধাপে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই এখন তাঁর লক্ষ্য।

নিজের উদ্যোগে ২০১৯ সাল থেকে গ্রামে খুলে বসেছেন পাঠশালা। এক সময় গাছের তলায় ব্লাকবোর্ড নিয়ে চলত পড়াশোনা। এখন গ্রামের একটি ক্লাবে মিলেছে জায়গা। যে পাঠশালার নাম সকলের মুখে মুখে ‘বিপিন বাবুর পাঠশালা’ বলেই পরিচিত হয়ে উঠেছে। কেউ ডাকেন বিপিন দা, কেউ ডাকেন বিপিন মাস্টার।

জানা যায়, বিপিন নিজে দিনমজুর। ২০০২ সালে মাধ্যমিক পাশ করার পর পড়াশোনা চালিয়ে যান। লক্ষ্য ছিল উচ্চমাধ্যমিক দেবেন। কিন্তু হঠাৎ শরীর অসুস্থ হয়ে পড়ায় এবং পরিবারের তখন প্রচুর আর্থিক অনটনের চাপে আর উচ্চমাধ্যমিক দেওয়া হয়নি। নিজের স্বপ্নপূরণ করতে পারেননি বিপিন। তাই তিনি চান, আদিবাসী অধ্যুষিত প্রত্যন্ত গ্রামের কোনও ছেলেমেয়েই যাতে অশিক্ষিত হয়ে না থাকে।

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোণা ১ নম্বর ব্লকের লক্ষ্মীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত একটি প্রত্যন্ত গ্রাম বনডাঙা। এই গ্রামেই জন্ম বিপিন হেমরমের (৩৯)। অনেক দিন থেকেই তিনি মনে ভেবেছিলেন যে গ্রামের জন্য কিছু একটা করা দরকার। কিন্তু নিজের স্বপ্নপূরণ না হলেও গ্রামের ছেলে মেয়েদের স্বপ্ন পূরণ করাই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য।

এই গ্রামে প্রায় ২০০টি আদিবাসী পরিবারের বাস। সবাই দিন আনা দিন খাওয়া মানুষ। গ্রাম থেকে ঘাটাল মহকুমা শহরের দূরত্ব প্রায় ৩৫ কিলোমিটার, চন্দ্রকোণা টাউন থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার। গ্রামে রয়েছে বনডাঙা আদিবাসী প্রাথমিক বিদ্যালয়। সেখান থেকে ছেলেমেয়েরা যাতে স্কুলছুট না হয়, যাতে লেখাপড়া ছেড়ে না দেয়, তার জন্য নিজের উদ্যোগে তাদের অলচিকি, বাংলা ও ইংরেজি শিক্ষা দিচ্ছেন বিপিন।

বিপিনের কাছে বর্তমানে পড়ুয়ার সংখ্যা ৪০-৫০ জন। ছোট পড়ুয়ারা শুধুমাত্র বিপিনের কাছেই পড়াশোনা করেন। কোনও অভিভাবক ভালোবেসে মাসে ১০ বা ২০ টাকা দিলে সেটুকু নিয়েই খুশি থাকেন তিনি। বিপিনের লক্ষ্য টাকা-পয়সা নয়, একটাই লক্ষ্য, আদিবাসী সমাজ থেকে কুসংস্কার দূর করে গ্রামের প্রতিটি ঘরে শিক্ষার আলো জ্বালানো। বিপিনের এই উদ্যোগকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন এলাকার মানুষ। আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রামের সকলেই তাকিয়ে আছেন বিপিনের মুখের দিকে। বিপিনের চোখ দিয়েই গ্রামের ছোট্ট খুদে পড়ুয়ারা কেউ শিক্ষক, কেউ ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখছে।

Follow Us