Kalna: ‘আমি বাড়ির বউ…’, পঞ্চায়েত অফিসে পুলিশ হানা দিতেই বললেন তৃণমূল প্রধান
Kalna Panchayat Office Government Documents: পঞ্চায়েতের তরফে জানানো হয়, উদ্ধার হওয়া বহু কার্ডে নামের বানান ভুল ছিল। আবার কিছু কার্ড ডুপ্লিকেট হওয়ায় সেগুলি বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়নি এলাকার বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, বহু মানুষ ১৫ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে সরকারি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত। অনেকের আশঙ্কা, দীর্ঘদিন ধরে না পাওয়া তাঁদের সরকারি কার্ডও উদ্ধার হওয়া নথিগুলির মধ্যেই থাকতে পারে।

কালনা: সরকারি পরিষেবা পাওয়া যাচ্ছে না। এই নিয়ে বহু মানুষের ক্ষোভ ছিল। এবার পঞ্চায়েত অফিস থেকে উদ্ধার হল বিপুল পরিমাণ এসসি-এসটি সার্টিফিকেট, ডিজিটাল রেশন কার্ড, ভোটার পরিচয়পত্র এবং জব কার্ড। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল পূর্ব বর্ধমানের কালনা ২ নম্বর ব্লকের বড় ধামাস গ্রামে। চাপে পড়ে তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধানের স্বীকারোক্তি, “আমি বাড়ির বউ, ভোটে দাঁড় করিয়েছে। সেই হিসাবে প্রধান হয়েছি। সেই রকম নলেজ আমার নেই। রাজনৈতিক নেতাদের নির্দেশেই পঞ্চায়েত চলত।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আবাস যোজনার উপভোক্তাদের তালিকা দেখতে গিয়ে কয়েকজন গ্রামবাসীর নজরে আসে পঞ্চায়েতে স্তূপাকারে রাখা বিভিন্ন সরকারি নথি। ঘটনায় উত্তেজনা ছড়ায় পঞ্চায়েতে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সংশ্লিষ্ট ঘরটি সিল করে দেয়।
পঞ্চায়েতের তরফে জানানো হয়, উদ্ধার হওয়া বহু কার্ডে নামের বানান ভুল ছিল। আবার কিছু কার্ড ডুপ্লিকেট হওয়ায় সেগুলি বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়নি এলাকার বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, বহু মানুষ ১৫ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে সরকারি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত। অনেকের আশঙ্কা, দীর্ঘদিন ধরে না পাওয়া তাঁদের সরকারি কার্ডও উদ্ধার হওয়া নথিগুলির মধ্যেই থাকতে পারে। এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পঞ্চায়েতে অনিয়ম ও দুর্নীতির জেরেই বহু সরকারি নথি সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছায়নি। তাঁরা তদন্তের দাবি জানান।
ঘটনায় তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধান মুনমুন বাগের দাবি, প্রধানের পদে থাকলেও সব সিদ্ধান্ত তাঁর হাতে ছিল না। তিনি একজন সাধারণ গৃহবধূ। তাঁকে ভোটে দাঁড় করিয়ে প্রধান করা হয়েছিল বলে যুক্তি দেন। তাঁর অভিযোগ, কালনা ২ নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি প্রণব রায়ের নির্দেশেই অধিকাংশ কাজ পরিচালিত হত।
