Purba Bardhaman: মা ক্যান্টিনে ৫ টাকার খাবার খেলেন, পাতা ফেলতে গিয়ে রেগে কাঁই মন্ত্রী
Minister Swapan Debnath: সাধারণ মানুষের সঙ্গে একই লাইনে দাঁড়িয়ে খাবার নেন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। এরপর নিজেই সেই খাবার খেয়ে মান যাচাই করেন। প্রথমে দাঁড়িয়েই খাবার খেতে শুরু করেন। তারপর একজন চেয়ার এনে দেন। খাওয়ার সময় মন্ত্রী জানতে চান, ডালটা অতিরিক্ত পাতলা কেন? পোস্তর তরকারিতে পর্যাপ্ত পোস্ত না থাকার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

কালনা: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে কালনা মহকুমা হাসপাতালে চালু হয়েছে ‘মা ক্যান্টিন’। যেখানে পাঁচ টাকায় খাবার পাওয়া যায়। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে আসা প্রায় তিনশোর বেশি মানুষ এখানে স্বল্পমূল্যে দুপুরের খাবার গ্রহণ করেন। শনিবার এই মা ক্যান্টিনেই খাবার খেলেন রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। খাবার খেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও খাবারের মান একটু বাড়াতে বললেন। তবে মন্ত্রী রেগে গেলেন খাবার নষ্ট হওয়া দেখে। হাতজোড় করে তাঁকে বলতেও শোনা যায়, প্রয়োজনমতো খাবার নিন। প্রয়োজনে আবার নেবেন।
শনিবার আচমকা কালনা মহকুমা হাসপাতালের মা ক্যান্টিনে পৌঁছে যান স্বপন দেবনাথ। সাধারণ মানুষের সঙ্গে একই লাইনে দাঁড়িয়ে খাবার নেন তিনি। এরপর নিজেই সেই খাবার খেয়ে মান যাচাই করেন। প্রথমে দাঁড়িয়েই খাবার খেতে শুরু করেন। তারপর একজন চেয়ার এনে দেন। খাওয়ার সময় মন্ত্রী জানতে চান, ডালটা অতিরিক্ত পাতলা কেন? পোস্তর তরকারিতে পর্যাপ্ত পোস্ত না থাকার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের কাছেও বিষয়টি জানতে চান মন্ত্রী।
এরপর খাবার শেষ করে পাতা ফেলতে গিয়ে ডাস্টবিনে ভাতের স্তূপ দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। কেন এত ভাত নষ্ট হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তুলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের সতর্ক করেন। অতিরিক্ত ভাত না দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে মন্ত্রী জানান, প্রয়োজন হলে মানুষ পরে এসে ভাত নিতে পারেন। সেইসময়ই খাবার নিতে আসা এক মহিলাকে মন্ত্রী বলেন, “প্রয়োজনমতো খাবার নিন। আমি খুদ খেয়ে মানুষ হয়েছি। খাবারের মর্যাদা জানি। প্রয়োজনে আবার নেবেন।” হাতজোড় করে অনুরোধ করতেও দেখা যায় মন্ত্রীকে। মন্ত্রী আরও জানান, যে সেডটি খাবার খাওয়ার জন্য তৈরি করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে সেখান থেকেই খাবার পরিবেশন করা হবে, যাতে শৃঙ্খলা বজায় থাকে।

খাবার নষ্ট হওয়া দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মন্ত্রী
এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা জানান, সবাই বেশি বেশি করে খাবার নেন। পরে নেওয়ার কথা বললেও শোনেন না। ফলে অনেকেই ভাত নষ্ট করেন। খাবারের মান নিয়ে তাঁদের বক্তব্য, প্রত্যেকদিন আলাদা আলাদা সব্জি হয়। এদিন কোনও কারণে পোস্ত কম পড়েছে। তবে আগামিদিনে খাবারের মান আরও উন্নত করা হবে এবং খাবার নষ্ট হওয়া রোধে বিশেষ নজর দেওয়া হবে বলে তাঁরা জানান।
