
কাটোয়া: একই পরিবারের সদস্য, কিন্তু অবস্থান ভিন্ন রাজনৈতির মেরুতে। একজন জেলা তৃণমূল সভাপতি ও বিদায়ী বিধায়ক। এবার আবার কাটোয়া বিধানসভার কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন। তিনি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে এই কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী হয়েছেন রণজিৎ চট্টোপাধ্যায়। তিনি আবার সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথের ভাইপো। কাকা-ভাইপোর লড়াইয়েই এবার জমে উঠেছে কাটোয়ার নির্বাচনী ময়দান।
কাটোয়া শহরের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের বারোয়ারিতলার বাসিন্দা রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়। একই বাড়িতেই থাকেন ভাইপো রণজিৎ চট্টোপাধ্যায়। কাকার হাত ধরেই ভাইপোর রাজনীতিতে হাতেখড়ি। কংগ্রেসের হয়ে কাটোয়ার দুর্গ আগলে রাখলেও ২০১৫ সালে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়। একটানা ৬ বারের বিধায়ক তিনি। কাকা দল পরিবর্তন করলেও ভাইপো কংগ্রেসের হয়ে পুরসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। কাটোয়া পুরসভার ৬ নম্বর ওয়াডের কংগ্রেসের কাউন্সিলরও হন।
ভাইপোই কী জয়ের পথে বড় কাঁটা হতে চলেছেন? ভাইপোকে যদিও খুব একটা পাত্তা দিতে নারাজ কাকা। রবীন্দ্রনাথের সাফ কথা, কোনও কাঁটা নয়। এক সময় কংগ্রেস কাটোয়ার নিজস্ব সংগঠন তৈরি করেছিল। কংগ্রেসের নেতৃত্বের জন্য সংগঠন নষ্ট হয়ে গিয়েছে। মানুষ আমাদেরই ভোট দেবে, এটা বিশ্বাস করি। যদিও জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী ভাইপো। কংগ্রেস প্রার্থী রণজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “কাকার বিরুদ্ধে লড়াই নয়,তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করছি।” আর কী বলছে বিজেপি থেকে বামেরা?
বিজেপি প্রার্থী কৃষ্ণ ঘোষ বলছেন, মানুষ বোকা নয়। সবাই এখন সব বুঝে গিয়েছে। মানুষ বিজেপিকেই চায়। খোঁচা দিতে ছাড়ছেন না সিপিআইএম প্রার্থী সঞ্জীব দাস। তিনি বলছেন, মূল ইস্যুগুলিকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি সামনে নিয়ে আসা হয়। লড়াইটা ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তির নয়, নীতির সঙ্গে নীতির লড়াই। কাকা-ভাইপো এখানে কোনও ব্যাপার নয়।