
পূর্ব মেদিনীপুর: রাজ্যে পালাবদলের আবহে চন্দ্রনাথের হত্যাকাণ্ডের পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। একদিকে শুভানুধ্যায়ীদের ভিড়, অন্যদিকে নিরাপত্তার ঝুঁকি, এই দুই বিষয়কে মাথায় রেখে পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথিতে অধিকারী বাড়ি ‘শান্তিকুঞ্জ’-এর নিরাপত্তা আরও কয়েক ধাপ বেড়ে গেল। কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীতে গোটা পরিবার।
শুভেন্দু অধিকারী, দিব্যেন্দু অধিকারী এবং সৌমেন্দু অধিকারীর নিরাপত্তার দায়িত্বে কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি মোতায়েন করা হয়েছে রাজ্য পুলিশকেও। একইসঙ্গে তাঁদের যাতায়াতের জন্য এখন থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের পাইলট কার, স্কট কার ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ সূত্রে খবর, শান্তিকুঞ্জে সাধারণ মানুষের অবাধ প্রবেশে কিছুটা লাগাম টানা হয়েছে। জোরদার করা হয়েছে নজরদারি।
প্রসঙ্গত, গত রাতে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যগ্রামের দোহাড়িয়ার কাছে শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘ আট বছরের আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথের গাড়ি থামায় দুষ্কৃতীরা। এরপর তাঁকে লক্ষ্য করে একের পর এক গুলি চলে। তাঁর বুক ও পেটে গুলি লাগে। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় দিনভর তোলপাড় চলছে বঙ্গ রাজনীতির আঙিনায়। বিজেপির অর্জুন সিং ও শঙ্কুদেব পন্ডাদের মতো নেতারা এই ঘটনার জন্য সরাসরি তৃণমূলের দিকে আঙুলের তুলেছেন। মর্মাহত শুভেন্দু অধিকারীও। তিনি বলছেন, ‘পরিকল্পিত ও ঠান্ডা মাথার খুন’। সূত্রের খবর, তৃণমূলে থাকার সময় থেকেই চন্দ্রনাথের সঙ্গে ব্যক্তিগত পরিচয় ছিল শুভেন্দুর। পরে শুভেন্দুর ব্যক্তিগত থেকে রাজনৈতিক সব কাজের তদারকির দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
এখন চন্দ্রনাথ রথের পরিণতির কথা মাথায় রেখে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর অন্য তিন জন আপ্ত সহায়ককেও এখন থেকে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ নিরাপত্তা প্রদান করা হচ্ছে বলে খবর।