Sundarban Durga Puja 2026: সমস্ত টাকা গায়েব করলেন তৃণমূলের মমতা হালদার? হচ্ছে না দুর্গাপুজো
Canning: গ্রামের মহিলাদের অভিযোগ, গত বছরের পুজো শেষে কমিটির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১ লক্ষ ৯২ হাজার টাকা জমা ছিল। কিন্তু তৎকালীন পুজো কমিটিতে থাকা স্থানীয় তৃণমূল সদস্য মমতা হালদার, কাঞ্চনা ঘরামী, সুশীলা সর্দার এবং জয়া হালদার সেই অ্যাকাউন্ট থেকে সমস্ত টাকা তুলে নিয়েছেন।

ক্যানিং: উৎসবের মরশুমেও বিষাদের সুর সুন্দরবনের (Sundarban) প্রত্যন্ত গ্রামে। বন্ধের মুখে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং থানা এলাকার বেলেডোনা নদীর তীরের গোলাবাড়ি গ্রামের একমাত্র মহিলা পরিচালিত দুর্গাপুজো। অভিযোগ, গত বছরের পুজোর তহবিলের টাকা লোপাট হয়ে যাওয়ার অভিযোগে তৈরি হয় চরম সঙ্কট। পরিস্থিতি এতটাই কঠিন যে, পুজোর আর মাত্র অল্পদিন বাকি থাকলেও এখনও মণ্ডপ তৈরির জন্য মাটিতে বাঁশ পর্যন্ত পোঁতা হয়নি।
গোলাবাড়ি এলাকার চারটি গ্রামের প্রায় ৫০০ জন মহিলা একজোট হয়ে সম্পূর্ণ নিজেদের কাঁধে এই পুজোর দায়িত্ব তুলে নিয়েছেন। এলাকায় এটিই একমাত্র মহিলা পরিচালিত পুজো হিসেবে পরিচিত। সারা বছর ধরে এই মহিলারা মাটির ভাঁড় ও কলসিতে মুঠো চাল জমিয়ে এবং মাটির ভাঁড়ারে খুচরো পয়সা জমিয়ে পুজোর তহবিল তৈরি করেন। পুজোর ঠিক এক মাস আগে সেই জমানো চাল ও অর্থ এক জায়গায় করে এবং সরকারি অনুদানের ওপর ভরসা করেই মূলত এই পুজোর আয়োজন করা হয়।কিন্তু এবারের পুজোর আনন্দ ম্লান হতে বসেছে এক বিরাট আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগে।
গ্রামের মহিলাদের অভিযোগ, গত বছরের পুজো শেষে কমিটির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১ লক্ষ ৯২ হাজার টাকা জমা ছিল। কিন্তু তৎকালীন পুজো কমিটিতে থাকা স্থানীয় তৃণমূল সদস্য মমতা হালদার, কাঞ্চনা ঘরামী, সুশীলা সর্দার এবং জয়া হালদার সেই অ্যাকাউন্ট থেকে সমস্ত টাকা তুলে নিয়েছেন। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতছাড়া হয়ে যাওয়ায় এবার পুজো কীভাবে হবে, তা নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় পড়েছেন উদ্যোক্তারা।
এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী। ইতিমধ্যেই ক্যানিং থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অন্যদিকে, তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন অভিযুক্ত তৃণমূল সদস্য মমতা হালদার।
টাকা লোপাটের এই টানাপোড়েনে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও, হার মানতে নারাজ সুন্দরবনের এই লড়াকু মহিলারা। যেহেতু এটিই গ্রামের একমাত্র পুজো, তাই মা-দুর্গার আরাধনা বজায় রাখতে তাঁরা একজোট হয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। হয়ত পুজোয় জাঁকজমক থাকবে না, মণ্ডপে থাকবে না রঙিন আলোর রোশনাই বা থিমের বাহার। কিন্তু অভাবের এই কঠিন পরিস্থিতিতেও গ্রামের মহিলাদের জেদ আর আন্তরিকতার ছোঁয়ায় পুজো তার নিজস্ব অনাড়ম্বর আনন্দ নিয়েই সম্পন্ন হবে।
এ প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা সঞ্জয় নায়েক বলেন, “এটা হল তৃণমূলের চুরি ডাকাতির নতুন সংযোজন। যেখানে যেখানে তৃণমূল ঢুকেছে সেখান সব চুরি করে শেষ করেছে।”
