
ভাঙড়: বাঁশ বাগানের ভিতর দিয়ে দামি বাইক নিয়ে এসেছিল দু’জন। সিটে রাখা ছিল ড্রাম। আর সেইটা দেখেই সন্দেহ হয়েছিল এলাকার বাসিন্দাদের। একজন প্রশ্নও করেছিলেন, এর ভিতর কী আছে…।ব্যাস তাতেই ফাঁস রহস্য। ভোটের আগে পরপর তাজা বোমা উদ্ধার। ভাঙড়ে ফের উদ্ধার বারুদ ভর্তি ড্রাম ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম। ২৪ ঘণ্টার ব্যাবধানে বোমা উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। সোমবার অর্থাৎ গতকাল ২৬টি তাজা বোমা উদ্ধার হয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই দোলের দিন আবারও উদ্ধার হল বারুদ ভর্তি ড্রাম ও বস্তা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে ভাঙড়এর কৃষ্ণমাটি এলাকায়। এলাকার লোকজনই ওই ্
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল ভাঙড় দু’নম্বর ব্লকের কৃষ্ণমাটি ব্রিজ সংলগ্ন খালপাড় এলাকা থেকে প্রায় ২৬টি তাজা বোমা উদ্ধার করে কলকাতা পুলিশের লালবাজার ডিডি এবং বিজয়গঞ্জ বাজার থানার পুলিশ। আর এবার কৃষ্ণমাটি গাজীপাড়া এলাকায় উদ্ধার হয় দু’টি ড্রাম ও একটি বস্তা ভর্তি বারুদ।
স্থানীয় সূত্রে খবর, একটি বুলেট বাইকে করে দু’জন ব্যক্তি ওই বারুদ পাচার করছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের হাতেনাতে ধরে ফেলেন। বস্তা ও ড্রামের মুখ খোলা হলে বেরিয়ে আসে বোমা তৈরির বারুদ। ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিজয়গঞ্জ বাজার থানার পুলিশ।
ভাঙড়ে অশান্তির ঘটনা নতুন কিছু নয়। প্রতিবারই ভোটের আগে বোমা উদ্ধার হয়। চলে গুলি। এবারও ভোট যত কাছে আসছে ততই বোমা উদ্ধার হচ্ছে। কারা রাখছে বোমা? সেই উত্তর যদিও মেলেনি। তবে এবার তৃণমূলের জন্য ভাঙড় হল প্রেসটিজ ফাইট। একুশের ভোটে সারা রাজ্যে সবুজ ঝড় থাকলেও ভাঙড়ের মাটি হারাতে হয়েছে তৃণমূলকে। আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি জয়ী হয়েছিলেন বিপুল ভোটে। ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে ইতিমধ্যেই তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল সামনে যেমন এসেছে তেমনই আইএসএফ ছেড়ে শাসকদলে যোগদানের খবরও প্রকাশ্যে এসেছে। এই আবহে এবার বোমা উদ্ধারে ফের একবার চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।