Narendrapur Fraud: মেসেজে ‘পেমেন্ট সাকসেসফুল’, অথচ পুরো টাকাই গায়েব! পুজোর মুখে গয়নার দোকানে নতুন ফাঁদ, গ্রেফতার মহিলা
Narendrapur Gold Shop Fraud: নরেন্দ্রপুর থানা এলাকার কালীবাজারের একটি সোনার দোকানেও একই কায়দায় প্রতারণার অভিযোগ ওঠে। দোকানের কর্ণধার তারক কর্মকারের দাবি, ওই মহিলার দেখানো মেসেজ দেখে তিনি প্রাথমিকভাবে ব্যাঙ্কের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিলেন। প্রাথমিক যাচাইয়ে কোনও সন্দেহ প্রকাশ করা হয়নি ব্যাঙ্কের তরফে।

নরেন্দ্রপুর: মোবাইলের স্ক্রিনে লেখা মেসেজ ‘পেমেন্ট সাকসেসফুল’। দেখে মনে হবে, টাকা পৌঁছে গিয়েছে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। সেই মেসেজে ভরসা করেই ক্রেতার হাতে সোনার গয়না তুলে দিয়েছিলেন দোকানদার। কিন্তু পরে অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করতেই চক্ষু চড়কগাছ! জমা পড়েনি এক টাকাও। শুধু একটা নয়, পর পর একাধিক দোকানে ঠিক একইভাবে সোনার দোকানে প্রতারণার অভিযোগে এবার এক মহিলাকে গ্রেফতার করল নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ। ধৃতের নাম মধুরিমা দাস। পুলিশ সূত্রে খবর, তিনি লেক থানা এলাকার বাসিন্দা।
কীভাবে চলত প্রতারণা?
তদন্তকারীদের প্রাথমিক দাবি, প্রথমে বিভিন্ন সোনার দোকান সম্পর্কে খোঁজখবর নিতেন অভিযুক্ত মহিলা। কার্যত ‘রেইকি’ করার পর ক্রেতা সেজে ঢুকতেন দোকানে। পছন্দ করতেন সোনার গয়না। কিন্তু দাম মেটানোর সময়ই শুরু হত আসল কারসাজি। অভিযোগ, টাকা মেটানো নিয়ে নানা অজুহাত দেওয়ার পর মোবাইলে একটি মেসেজ দেখাতেন ওই মহিলা। সেটি দেখতে অনেকটা ব্যাঙ্কের সফল লেনদেনের মেসেজের মতো। সেই মেসেজ দেখে দোকানদাররা মনে করতেন, তাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে গিয়েছে। এরপর গয়না নিয়ে দোকান থেকে বেরিয়ে যেতেন ওই মহিলা। কিন্তু পরে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করে দেখা যেত, কোনও টাকাই জমা পড়েনি।
নরেন্দ্রপুরের দোকানে কী ঘটেছিল?
নরেন্দ্রপুর থানা এলাকার কালীবাজারের একটি সোনার দোকানেও একই কায়দায় প্রতারণার অভিযোগ ওঠে। দোকানের কর্ণধার তারক কর্মকারের দাবি, ওই মহিলার দেখানো মেসেজ দেখে তিনি প্রাথমিকভাবে ব্যাঙ্কের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিলেন। প্রাথমিক যাচাইয়ে কোনও সন্দেহ প্রকাশ করা হয়নি ব্যাঙ্কের তরফে। কিন্তু পরে লেনদেনের বিস্তারিত পরীক্ষা করে জানতে পারেন,তাঁর অ্যাকাউন্টে কোনও টাকাই ঢোকেনি।
প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে নরেন্দ্রপুর থানায় অভিযোগ জানান ওই দোকানের মালিক। পুলিশের হাতে তুলে দেন দোকানের সিসিটিভি ফুটেজও। তাঁর দাবি, ঘটনার পর অভিযুক্ত মহিলার সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ করা হয়েছিল। প্রতিবারই ওই মহিলা দাবি করেন, তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে। কিছু সময়ের মধ্যেই সেই টাকা দোকানদারের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে। কিন্তু টাকা আসেনি বলেই অভিযোগ।
দোকানের মালিক বলেন, “২৯ অগস্ট ঘটনাটি ঘটে। এসে বলেছিল গিফ্ট দেওয়ার জন্য কানের দুল দেখাতে। বাজেট বলেছিল ২২ থেকে ২৫ হাজারের মধ্যে। তার মধ্যে একটা পছন্দ করে প্যাক করে দিতে বলে। বিল হয় ২২ হাজার ২৯৭ টাকা। প্যাক করার বলে কাকু এটা অনলাইনে দেব। আমার অ্যাকাউন্টে ব্যালেন্স নেই। বাবার অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা দেব। তার জন্য অ্যাকাউন্ট নম্বর বা চেক বইয়ের নম্বর দিতে বলেছিল। অ্যাকাউন্ট নম্বর দিলাম। ট্রান্সফার করল টাকা। ওর অ্যাকাউন্টে সাকসেসফুল দেখাল। আবার একটা মেসেজ দেখাল যে অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নিয়েছে। তখন আমি জানাই যে আমার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকেনি। তখন আমাকে বলা হয় অনলাইনে অনেকসময় টাকা ঢুকতে দেরি হয়। পরে টাকা না ঢোকার পর ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ করি। ম্যানেজার জানান, ম্যাসেজের তথ্য ঠিক আছে। তাই ৭২ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে বলেন। কিন্তু, সেই সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর থানায় যাই। কালই একজায়গায় একইভাবে গয়না চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে অভিযুক্ত।”
আরেক দোকানেও প্রতারণা
অভিযোগ, এরই মধ্যে চৌহাটি এলাকার আরও একটি সোনার দোকানে গয়না কিনতে যান ওই মহিলা। সেখানে তাঁর আচরণে সন্দেহ হয় দোকানদারের। তিনি পুলিশকে খবর দেওয়ার পাশাপাশি কথাবার্তার মাধ্যমে ওই মহিলাকে দোকানেই আটকে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে আটক করে। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলা রুজু হয়েছে। সোনার গয়নাও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক দাবি, বাদুড়িয়া, খড়দহ, রাজারহাট-সহ আরও কয়েকটি এলাকার সোনার দোকানেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। মূলত শহরতলির সোনার দোকানগুলিকে টার্গেট করা হত কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত মহিলা একাই যুক্ত, নাকি এর পিছনে আরও কেউ রয়েছেন, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
ব্যবসায়ীদের সতর্কবার্তা
ঘটনার পর সোনার ব্যবসায়ীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সোনারপুর উত্তর স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক রতন মালাকার। শুধু ক্রেতার মোবাইলে ‘পেমেন্ট সাকসেসফুল’ মেসেজ দেখেই গয়না তুলে না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা সত্যিই জমা পড়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার পরেই গয়না বা অন্য মূল্যবান সামগ্রী ক্রেতার হাতে তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
