AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Raiganj: পুলিশের গাড়ি ঘনঘন থানায় ঢুকতে থাকে, মধ্যরাতে আসেন ম্যাজিস্ট্রেটও! ১৩ বছরের এক মেয়েকে যেভাবে দেখা গেল, সাড়া ফেলে দিল শহরে

Kulik Forest Minor Death: মৃত নাবালিকার বয়স আনুমানিক ১৩ বছর। মঙ্গলবার রায়গঞ্জ শহর সংলগ্ন এলাকা থেকে নিজের সাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল সে। তারপর থেকেই তার কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের পক্ষ থেকে নাবালিকার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছিল।

Raiganj: পুলিশের গাড়ি ঘনঘন থানায় ঢুকতে থাকে, মধ্যরাতে আসেন ম্যাজিস্ট্রেটও! ১৩ বছরের এক মেয়েকে যেভাবে দেখা গেল, সাড়া ফেলে দিল শহরে
এলাকায় পুলিশি টহলImage Credit: TV9 Bangla
| Edited By: | Updated on: Nov 06, 2026 | 9:05 AM
Share

উত্তর দিনাজপুর: মঙ্গলবার সাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও বাড়ি ফেরেনি। পরিবারের তরফ থেকে সম্ভাব্য সমস্ত জায়গায় খোঁজ করা হয়। কিন্তু মেলেনি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর জঙ্গলের ধারের রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন এলাকারই কয়েকজন। তাঁদের নাকে একটা গন্ধ আসে। অত্যুৎসাহী হয়ে জঙ্গলের দিকে উঁকি দিতেই চমকে ওঠেন। একটা দেহ পড়ে রয়েছে। চামড়া গলে খসে পড়ছে তা থেকে। পোকা ভন্ ভন্ করছে। ভয়ঙ্কর ঘটনা উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে।  কুলিক ফরেস্টে নাবালিকার পচাগলা বিবস্ত্র দেহ উদ্ধার। ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ পরিবারের। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে তদন্তে একাধিক পুলিশি দল।

মৃত নাবালিকার বয়স আনুমানিক ১৩ বছর। মঙ্গলবার রায়গঞ্জ শহর সংলগ্ন এলাকা থেকে নিজের সাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল সে। তারপর থেকেই তার কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের পক্ষ থেকে নাবালিকার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছিল। অবশেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে কুলিক ফরেস্টের গভীর এলাকা থেকে উদ্ধার হয় নিখোঁজ সেই নাবালিকার পচাগলা বিবস্ত্র দেহ। এরপরই গোটা ঘটনায় নতুন করে রহস্য ঘনীভূত হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে।

ঘটনার গুরুত্ব বুঝে উচ্চপর্যায়ের আধিকারিকদের নির্দেশে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই তদন্তে বিশেষ তৎপরতা শুরু করে রায়গঞ্জ পুলিশ। নাবালিকার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে দ্রুত ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের আধিকারিকের উপস্থিতিতে রাতেই ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

রাত ১১টা ৩০ মিনিটে রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজের পুলিশ মর্গের সামনে দেখা যায় পুলিশের একাধিক আধিকারিকের উপস্থিতি। সেখানে ম্যাজিস্ট্রেট এবং চিকিৎসকদের বিশেষ দলের তত্ত্বাবধানে নাবালিকার মৃতদেহের ময়নাতদন্ত চলছিল। পুলিশ সূত্রে খবর, প্রাথমিকভাবে নাবালিকার মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতেই পুলিশের উচ্চপর্যায়ের আধিকারিকরা বিশেষভাবে তৎপর হয়ে ওঠেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট থেকে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং মৃত্যুর আগে নাবালিকার উপর কোনও শারীরিক নির্যাতন হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার অপেক্ষায় ছিল তদন্তকারী মহল।

অন্যদিকে, একই সময়ে তদন্তের স্বার্থে রায়গঞ্জ পুলিশের ছয়টি বিশেষ দল বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখতে শুরু করে। মঙ্গলবার বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নাবালিকার গতিবিধি কেমন ছিল, সে কোথায় কোথায় গিয়েছিল, কারও সঙ্গে তার দেখা হয়েছিল কি না এবং কীভাবে সে কুলিক ফরেস্টের গভীর এলাকায় পৌঁছল, সেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে শুরু করেন তদন্তকারীরা।

রাত প্রায় ১২টা নাগাদ রায়গঞ্জ থানায় দেখা যায় পুলিশের চরম ব্যস্ততা। পুলিশের গাড়ি ঘনঘন থানায় ঢুকছে, আবার কিছুক্ষণের মধ্যেই বেরিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরায় পাওয়া নাবালিকার গতিবিধির ছবি রায়গঞ্জ থানার নিজস্ব সিসিটিভি ফুটেজের সঙ্গে মিলিয়ে দেখছিলেন পুলিশ আধিকারিকরা। পুলিশ সূত্রে খবর, একাধিক ফুটেজের মধ্যে সময় ও গতিবিধির সামঞ্জস্য খুঁজে বের করে ঘটনার আগের মুহূর্তগুলির ধারাবাহিকতা বোঝার চেষ্টা চলছিল।

এরপর রাত প্রায় সাড়ে ১২টা মিনিট নাগাদ রায়গঞ্জের আব্দুল ঘাটা বাঁধের উপর দেখা যায় পুলিশের উচ্চপর্যায়ের আধিকারিকদের উপস্থিতি। ওই এলাকায় পুলিশের আধিকারিকদের এমন তৎপরতা দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্তকারীরা মনে করছেন, আব্দুল ঘাটা বাঁধ সংলগ্ন এলাকাটি এই ঘটনার তদন্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ, বাঁধের একদিকে রয়েছে কুলিক ফরেস্ট। অন্যদিকে, আব্দুল ঘাটা বাঁধের ওই প্রান্ত থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে জঙ্গলের গভীরে উদ্ধার হয়েছিল নাবালিকার দেহ।

বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে তদন্ত অনেকটাই এগিয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তদন্তকারীরা ঘটনার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হাতে পেয়েছেন বলেও জানা যাচ্ছে। তবে রাত পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তের অগ্রগতি কিংবা কোনও নির্দিষ্ট সূত্রের বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।

রাত প্রায় দুটা নাগাদ ফের পুলিশের তৎপরতা চোখে পড়ে রায়গঞ্জের শিলিগুড়ি মোড়ে। সেখানে পুলিশের একাধিক গাড়ির আনাগোনা দেখা যায়। শিলিগুড়ি মোড়ের ট্রাফিক গার্ডে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের কাছ থেকেও জানা গিয়েছে, পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা বিভিন্ন গাড়িতে উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ সূত্রে খবর, শিলিগুড়ি মোড় থেকে প্রায় চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে কোনও একটি জায়গা থেকে উদ্ধার হয়েছে নিখোঁজ নাবালিকার সাইকেল।

আরও জানা যাচ্ছে, যে জায়গা থেকে সাইকেলটি উদ্ধার হয়েছে, সেখানে চোরাই মালপত্র কেনাবেচার কারবার চলে বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। সাইকেল উদ্ধারের স্থান, সিসিটিভি ফুটেজ এবং নাবালিকার শেষ গতিবিধির মধ্যে যোগসূত্র খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

এদিকে, এই নৃশংস ঘটনার পর থেকেই রায়গঞ্জের নাগরিক সমাজের মধ্যে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। নাবালিকার মৃত্যুর আগে তার উপর কোনও ধরনের যৌন নির্যাতন করা হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকেও ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। ফলে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন পরিবারের সদস্য থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। মৃত্যুর আগে নাবালিকার সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছিল, কীভাবে সে কুলিক ফরেস্টের গভীরে পৌঁছল এবং এই ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছে, সেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইছেন রায়গঞ্জের বাসিন্দারা।

Follow Us