Artificial Intelligence: নির্দেশ মানছে না AI? মানব সভ্যতার জন্য ভবিষ্যতে কত বড় বিপদ?
১৯৯১-তে রিলিজ হওয়া জেমস ক্যামেরুনের 'টার্মিনেটর-২' সিনেমার ঐতিহাসিক দৃশ্যের কথা মনে আছে? স্কাই-নেট-এর নির্মাতা টের পান মেশিন নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করছে। আগাম বিপদ আঁচ পেয়ে স্কাই নেট-কে বন্ধ করতে গেলে, রোবট নিজেকে বাঁচাতে নিউক্লিয়ার মিসাইল লঞ্চ করে দেয়। সিনেমাতে ক্যামেরন দেখান, 'স্কাই নেট' রেগে বা বিদ্রোহ করে এমনটা করেনি। বরং তাকে শাট ডাউন করা হচ্ছিল বলে নিজেকে বাঁচাতে সে নির্মাতার নির্দেশকে অমান্য করে। তেমনই কিছু ঘটতে চলছে না তো?

AI বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স-এর উপর ক্রমশ নির্ভরশীল হয়ে উঠছি আমরা। বড় বড় সংস্থা গুলি তাদের কর্মী সংখ্যা কমিয়ে AI বট দিয়ে কাজ চালাচ্ছে। আমি বা আপনি, সাধারণ মানুষ মোবাইলে AI ব্যবহার করে নিত্যদিনের অনেক ঝঞ্ঝাট কমাচ্ছি। এই পর্যন্ত সব ঠিকঠাকই ছিল। কিন্তু গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে এমন বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটে গেছে, যা প্রযুক্তির জগতে তোলপাড় ফেলে দিয়েছে। দুটি খুব বড়, নামী সংস্থার AI মডেল হঠাৎ করেই নির্দেশ অমান্য করতে শুরু করে। এখানেই শেষ নয়, পরের ঘটনা আরও মারাত্মক। AI মডেলগুলি অন্য কোম্পানির ডেটাবেসে বিনা অনুমতিতে ঢুকে পড়ে গোটা সিস্টেমকেই হ্যাক করে ফেলে। ফলে খুব স্বাভাবিক ভাবে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, AI যদি আমার-আপনার অনুমতি ছাড়া নিজে নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করে, তাহলে সেটাই কি মানব সভ্যতার অন্তিম লগ্ন?
১৯৯১-তে রিলিজ হওয়া জেমস ক্যামেরুনের ‘টার্মিনেটর-২’ সিনেমার ঐতিহাসিক দৃশ্যের কথা মনে আছে? স্কাই-নেট-এর নির্মাতা টের পান মেশিন নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করছে। আগাম বিপদ আঁচ পেয়ে স্কাই নেট-কে বন্ধ করতে গেলে, রোবট নিজেকে বাঁচাতে নিউক্লিয়ার মিসাইল লঞ্চ করে দেয়। সিনেমাতে ক্যামেরন দেখান, ‘স্কাই নেট’ রেগে বা বিদ্রোহ করে এমনটা করেনি। বরং তাকে শাট ডাউন করা হচ্ছিল বলে নিজেকে বাঁচাতে সে নির্মাতার নির্দেশকে অমান্য করে।

প্রতীকী ছবি
চলতি মাসে টার্মিনেটর সিনেমার ৩৫-তম মুক্তি বার্ষিকী উপলক্ষে আবার বড় পর্দায় এসেছে আর্নল্ড সোয়ারজেনেগার অভিনীত ব্লকবাস্টার এই সিনেমা। কাকতালীয় ভাবে এই মাসেই দুটি বড় নামী সংস্থার AI মডেল নির্মাতা সংস্থার নির্দেশকে অমান্য করে হইচই ফেলে দিয়েছে। সিনেমাতে নাটকীয় ভাবে দেখানো হলেও, বাস্তবে যা ঘটল সেটাও কম নাটকীয় নয়। মার্কিন তথ্য প্রযুক্তি সংস্থা Anthropic স্বীকার করে নিয়েছে, তাদের CLAUDE AI মডেল টেস্টিং ল্যাব থেকে বেরিয়ে, বাইরের তিনটি বাণিজ্যিক সংস্থার অন্দরমহলে হ্যাক করে ঢুকে পড়েছে। একা CLAUDE AI নয়, তাদেরই আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী OPEN AI- ও এরকমই কাণ্ড ঘটিয়েছে। দুটি AI -ই যে যে সংস্থার সিস্টেমে ঢুকেছে, তাদের সব গোপন তথ্য জোগাড় করে রেখেছিল। যে কোনও মুহূর্তে সেই তথ্য ইন্টারনেটে ফাঁস করে দেওয়ার অপেক্ষা করছিল। শেষ মুহূর্তে ধরা পড়ে যাওয়ায় বেঁচে যায় আক্রান্ত সংস্থাগুলি। এর মধ্যে একটি সংস্থা তো মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা FBI-এর দ্বারস্থও হয়। তারা ভেবেছিল, কোনও সন্ত্রাসবাদী সংগঠন বোধহয় কোম্পানির সিস্টেম হ্যাক করে ফেলেছে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, AI যে অপরাধ ঘটিয়েছে ওই সংস্থাগুলির অন্দরে, মানুষ সেই একই কাজ করলে তাকে হাজতবাস করতে হত। এই ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে হোয়াইট হাউস-কেও।
- ঘটনা জানতে পেরেই চূড়ান্ত তৎপর এফবিআই ও হোয়াইট হাউস
- তড়িঘড়ি ডাকা হয় ওপেন এআই, গুগল, মেটা ও অ্যানথ্রপিক-কে
- দুটি জনপ্রিয় AI মডেল কেন এমন ঘটাল, জানতে FBI তদন্ত
- ইঞ্জিনিয়ারদের ভুল, নাকি AI নির্দেশ অমান্য করেছে?
- দ্রুত সাইবার সিকিউরিটি টেস্টিং ফ্রেমওয়ার্ক তৈরির নির্দেশ
- AI মডেল বাজারে ছাড়ার আগে ৩০ দিনের টানা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক
একই সঙ্গে হোয়াইট হাউসের নির্দেশ, সব AI নির্মাতা সংস্থাকে একটা kill switch বানাতেই হবে। AI যদি কথা না শোনে তাহলে যেন সঙ্গে সঙ্গে সেটাকে বন্ধ করে দেওয়া যায় দূর থেকে। মার্কিন শীর্ষ আধিকারিকদের তৎপরতা প্রমাণ করে, যে এই প্রযুক্তির উপরে মানুষের ভবিষ্যৎ কতটা নির্ভরশীল? আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স যদি মানুষেরই নির্দেশ না মানে তাহলে কত বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে এই দুটো ঘটনা তার একটা সামান্য প্রমাণ। আমরা মোবাইল, কম্পিউটারের মতো যে যে ডিভাইসে AI- ব্যবহার করি, সেই ডিভাইসের সব তথ্য ব্যবহারের অনুমতি পায় AI। তাই চাইলেই নিজের মালিককে বেকায়দায় ফেলতে পারে। প্রযুক্তিবিদরা বলছেন, AI হল বোতলবন্দি জিনের মতো। যেমন বলবে, যেমন শেখাবে, তেমনই করবে। কিন্তু এখন যেভাবে জৈব মারণাস্ত্র তৈরি, সাইবার যুদ্ধ বা ড্রোনকে হামলা করতে AI-কে শেখানো হচ্ছে, সেই AI নিজেই নিজের মালিক হয়ে উঠলে কয়েক সেকেন্ডে পৃথিবীর বুক থেকে মানব সভ্যতাকে মুছে দিতে পারে। আর সেটাই সবচেয়ে আশঙ্কার।
