AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Nahid Islam: ‘বাংলাদেশে ভারতকে ট্রানজিট করিডর তৈরির অনুমতি দিলে মেনে নেব না’, গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তি নিয়েও হুঁশিয়ারি নাহিদের

Nahid Islam on India Transit Corridor: শুক্রবার ঢাকায় একটি সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের বিরুদ্ধে ভারতকে ট্রানজিট করিডর দেওয়ার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগ করেন নাহিদ। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাহিদের দাবি, জাপানের মাধ্যমে ফের বাংলাদেশের ভিতর দিয়ে করিডর তৈরির চেষ্টা চলছে।

Nahid Islam: 'বাংলাদেশে ভারতকে ট্রানজিট করিডর তৈরির অনুমতি দিলে মেনে নেব না', গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তি নিয়েও হুঁশিয়ারি নাহিদের
নাহিদ ইসলামImage Credit: Tv9 Bangla
| Updated on: Nov 01, 2026 | 4:49 PM
Share

ঢাকা: বাংলাদেশের (Bangladesh) মধ্যে দিয়ে ভারতকে কোনও ট্রানজিট করিডর (Transit Corridor) তৈরির অনুমতি দেওয়া হলে তা মেনে নেব না। এমনই হুঁশিয়ারি দিলেন বাংলাদেশের ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (NCP) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম(Nahid Islam)। একইসঙ্গে ভারতের সঙ্গে গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তি পুনর্নবীকরণের বিষয়েও সরব হয়েছেন তিনি। আগামী ডিসেম্বর মাসে ৩০ বছরের পুরনো এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। তার আগে বাংলাদেশের স্বার্থ সুরক্ষিত রেখে ন্যায্য জলবণ্টন চুক্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন নাহিদ। তা না হলে ফের আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

ট্রানজিট করিডর নিয়ে হুঁশিয়ারি

শুক্রবার ঢাকায় একটি সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের বিরুদ্ধে ভারতকে ট্রানজিট করিডর দেওয়ার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগ করেন নাহিদ। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাহিদের দাবি, জাপানের মাধ্যমে ফের বাংলাদেশের ভিতর দিয়ে করিডর তৈরির চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, “জাপান আবার বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে একটি করিডর তৈরির চেষ্টা করছে। সরকার ভারতকে এই অবৈধ করিডর তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্পষ্ট করে বলতে চাই, বাংলাদেশের মানুষ এই ধরনের কোনও অবৈধ করিডর মেনে নেবে না।”

উল্লেখ্য, গত ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর জাপান সফরে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেই সফরে জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের একাধিক বিষয়ে সমঝোতা হয়। বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে শিল্প ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে নেওয়া ‘বে অফ বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট’ বা বিগ-বি উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করে নতুন কৌশলগত সহযোগিতার কাঠামো তৈরির বিষয়ে সম্মত হয় দুই দেশ। এর আওতায় যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা, প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলা, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার মতো বিষয়গুলিতে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

তবে বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, তারেক রহমানের জাপান সফরে কোনও তৃতীয় দেশকে নিয়ে আলোচনা হয়নি। শুক্রবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন,”জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে। তৃতীয় কোনও দেশকে নিয়ে আলোচনা করতে হলে সেই দেশের প্রতিনিধিদেরও উপস্থিত থাকতে হত।”

অন্যদিকে, গত ২৮ অক্টোবর ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছিলেন, জাপানের সঙ্গে ভারতের অংশীদারিত্ব আরও মজবুত করতে চায় নয়া দিল্লি। বিশেষ করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলিকে কেন্দ্র করে জাপানের সঙ্গে একাধিক উদ্যোগ রয়েছে। এই যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আগ্রহী ভারত।

গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তি নিয়েও হুঁশিয়ারি

শুধু ট্রানজিট করিডর নয়, ভারতের সঙ্গে গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তি নিয়েও সরব হয়েছেন নাহিদ ইসলাম। ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ৩০ বছরের এই চুক্তির মেয়াদ আগামী ১২ ডিসেম্বর শেষ হচ্ছে। ফরাক্কা ব্যারাজে গঙ্গার জলপ্রবাহের ভিত্তিতে শুষ্ক মরসুমে, অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে জল বণ্টনের বিষয়টি এই চুক্তির আওতায় রয়েছে।

নাহিদের দাবি, নতুন চুক্তিতে বাংলাদেশের ন্যায্য জল পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তাঁর কথায়, “এবার গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তিতে নিজেদের ন্যায্য অংশ থেকে একটুও ছাড়ব না আমরা।” চুক্তি ন্যায্য শর্তে পুনর্নবীকরণ না হলে বাংলাদেশের মানুষ পথে নামবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

Follow Us