AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

চরম বেইমানির নজির! জামাতের প্রবল চাপেই কি এইসব করছেন ইউনূস

Bangladesh: ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রির বাংলাদেশ সফরের সময় ইউনূস প্রশাসন তাঁকে বলেছিল, শেখ হাসিনা দিল্লিতে বসে বাংলাদেশের সরকারকে আক্রমণ করছেন। দিল্লি তাঁকে থামাক। মিশ্রি জানিয়ে দেন, হাসিনা ভারতের অতিথি। ভারত কখনও অতিথির মুখ বন্ধ রাখতে বলে না।

চরম বেইমানির নজির! জামাতের প্রবল চাপেই কি এইসব করছেন ইউনূস
মহম্মদ ইউনূস।Image Credit: PTI
| Updated on: Dec 17, 2024 | 7:06 PM
Share

বাংলাদেশ: ৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর। ভারতীয় সেনার লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিত সিং অরোরার কাছে আত্মসমর্পণের দলিলে সই করেন ঢাকায় কর্মরত পাক সেনার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এ কে নিয়াজি। সেটাই ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মমুহূর্ত। বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা তাঁদের ‘অ্যাড্রেস টু দ্য নেশনে’ (জাতির উদ্দেশে ভাষণে) যে ভারতের নাম করবেন, তা পরবর্তীকালে রীতি হয়ে দাঁড়ায়। এই বছর দেখলাম ব্যতিক্রম। মহম্মদ ইউনূস তাঁর বিজয় দিবসের ভাষণে একবারের জন্যও ভারতের নাম মুখে আনলেন না।

ভাষণের প্রায় সবটা জুড়েই রইল বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনা। ইউনূস একবার শুধু বললেন, ‘নতুন বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের কোনও ভয় নেই।’ ভয় আছে কী নেই সেটা দেখাই যাচ্ছে, সামনে কী অপেক্ষা করছে, সেটাই এবার দেখার। ইউনূস তাঁর ভাষণে হাসিনাকে ‘পৃথিবীর ঘৃণ্যতম স্বৈরাচারী শাসক’ বলে মন্তব্য করেছেন। হাসিনাও অবশ্য ছেড়ে কথা বলেননি।

বিজয় দিবসের আগে দেশবাসীর উদ্দেশে বিবৃতিতে হাসিনা বলেছেন, “মহম্মদ ইউনূসের ফ্যাসিস্ট সরকারের মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের প্রতি বিন্দুমাত্র সংবেদনশীলতা নেই।” ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রির বাংলাদেশ সফরের সময় ইউনূস প্রশাসন তাঁকে বলেছিল, শেখ হাসিনা দিল্লিতে বসে বাংলাদেশের সরকারকে আক্রমণ করছেন। দিল্লি তাঁকে থামাক। মিশ্রি জানিয়ে দেন, হাসিনা ভারতের অতিথি। ভারত কখনও অতিথির মুখ বন্ধ রাখতে বলে না। তো ঢাকার চাপ দেওয়ার চেষ্টা যে সাউথ ব্লককে স্পর্শ করতে পারেনি তা হাসিনার এই সর্বশেষ বিবৃতি থেকেই বোঝা যাচ্ছে।

এদিকে, ইউনূস তাঁর ভাষণে কথা ভারতের নাম নেননি ঠিকই, তবে ১৯৭১-এর ১৪ ডিসেম্বর নিহত বুদ্ধিজীবীদের প্রসঙ্গেও নীরব রইলেন তিনি। ৭১-এর মার্চে তত্‍কালীন পূর্ব পাকিস্তানে পাক সেনার গণহত্যা, অপারেশন সার্চলাইটের কথা সবার জানা। ১৪ ডিসেম্বরে যা হয়েছিল তাকে এর ‘পার্ট টু’ বলা যায়। পাকিস্তান তখন বুঝে গিয়েছে যে যুদ্ধে ভারতের কাছে হার মানতেই হচ্ছে। তাই তারা ঠিক করে যাওয়ার আগে ভবিষ্যতে বাঙালির দেশকে মেধাশূন্য করে দিয়ে যেতে হবে। ৭১-এর ডিসেম্বর রাতে অসংখ্য শিল্পী, শিক্ষক, অধ্যাপক, ডাক্তার, অভিনেতা, লেখক, রাজনৈতিক নেতাদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে গুম-খুন করে পাক সেনা।

সে দিন পাক সেনাকে এইসব বুদ্ধিজীবীদের বাড়িগুলো চিনিয়ে দিয়েছিলেন জামাত এ ইসলামির নেতাকর্মীরা। যাঁরা কি না মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে ছিলেন। আজ জামাতের হাতের পুতুল ইউনূস। ফলে, তাঁর তো আর শহিদদের স্মরণ করার জো নেই। আর শুধু তাই নয়। প্রতি বছর বাংলাদেশে স্কুল-কলেজে ১৪ ডিসেম্বর ‘শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস’ হিসেবে পালিত হয়। এবার সব জায়গায় আগাম পৌঁছে যায় নির্দেশ। ‘শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস’-এ শ্রদ্ধা জানানো যাবে, কিন্তু, কোনও অনুষ্ঠান বা আলোচনা সভা করা যাবে না। কেন? তার কোনও কারণ বলা হয়নি সরকারি নির্দেশনামায়।

জামায়াতের অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘সেদিন ভারতপন্থী বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা না হলে আমরা এই ২০২৪-এও স্বাধীনতা পেতাম না।’ কেউ আবার বলছেন, ‘যুদ্ধে ভারত আমাদের মোটেই নিঃস্বার্থ হয়ে সাহায্য করেনি, ভারত চেয়েছিল পুতুল সরকার বসিয়ে বাংলাদেশকে শোষণ করবে।’ বেইমানির এর চেয়ে কোনও ভাল উদাহরণ হতে পারে কী!

Follow Us