Dhaka University Student Harassed: ‘ওড়না নামাও…’, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীর সঙ্গে চরম অশ্লীল ব্যবহারের পর অভিযুক্তকে ‘ধন্য ধন্য’ করল মৌলবাদীরা
Bangladesh: রাত সাড়ে ১০টার দিকে উন্মত্ত জনতা থানায় চড়াও হয় অভিযুক্তকে ছাড়ানোর জন্য। উল্টে অভিযোগকারী ছাত্রীর বিরুদ্ধেই যেন মামলা করা হয়, তার জন্য জোরাজুরি শুরু করে। ছাত্রীর নাম পরিচয় জানতে পেরে, তাঁকে নিয়ে ফেসবুকে কুরুচিকর মন্তব্য করা হয়।

ঢাকা: নৌরাজ্যের বাংলাদেশে প্রতিদিনই উঠে আসছে নারী নির্যাতনের খবর। উন্নয়নের নামে সেখানে নারীর স্বাধীনতা, অধিকারের উপরই কোপ বসাচ্ছে মৌলবাদীরা। কখনও মহিলাদের ফুটবল খেলায় নিষেধাজ্ঞা, কখনও আবার মহিলাদের বাজারে যাওয়ার অধিকারও কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে হেনস্থার শিকার হতে হল ওড়না ঠিক করে না পরার জন্য। ছাত্রীর অভিযোগে অভিযুক্ত মৌলবাদী নেতাকে গ্রেফতার করা হলেও, আদালতে রাতারাতি জামিন পেয়ে গেল সে। তাঁকে আবার গলায় মালা দিয়ে স্বাগত জানানো হল।
জানা গিয়েছে,অভিযুক্ত মোস্তফা আসিফ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের কর্মী। বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্রীকে তিনি হেনস্থা করেন বলে অভিযোগ। অভিযুক্ত ওই ছাত্রীকে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে বলে, “দেহ সঠিকভাবে ঢাকা নেই। ওড়না দিয়ে শরীর ঢাকতে হবে”। ছাত্রীর অভিযোগ, অভিযুক্ত অত্যন্ত উগ্র আচরণ করেন।
ছাত্রী অভিযুক্তের ছবি নিয়ে বিভিন্ন গ্রুপে পোস্ট করলে, তাঁর সহপাঠীরাই অভিযুক্তকে খুঁজে বের করে এবং থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযুক্ত পুলিশের কাছে নিজের অপরাধও স্বীকার করে নেয়। তবে গল্পটা বদলে যায় বেলা গড়াতেই। অভিযুক্তকে কেন গ্রেফতার করা হয়েছে, এই নিয়েই শোরগোল শুরু হয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে উন্মত্ত জনতা থানায় চড়াও হয় অভিযুক্তকে ছাড়ানোর জন্য। উল্টে অভিযোগকারী ছাত্রীর বিরুদ্ধেই যেন মামলা করা হয়, তার জন্য জোরাজুরি শুরু করে।
ছাত্রীর নাম পরিচয় জানতে পেরে, তাঁকে নিয়ে ফেসবুকে কুরুচিকর মন্তব্য করা হয়। মেসেঞ্জারে বিভিন্ন অশ্লীল মেসেজ পাঠিয়ে সেগুলি ভাইরাল করে দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিযুক্ত আসিফকে আদালতে পেশ করা হয়। সেখানে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেরা মাহবুব তার জামিন মঞ্জুর করে দেন। জামিনের পর তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন ‘তৌহিদী জনতা’ পরিচয় দেওয়া গোষ্ঠীটি।
যে হেনস্থা করেছে, তাকেই বীরের মতো বরণ করা এবং হেনস্থার শিকার হওয়া ছাত্রীকে সামাজিকভাবে আরও হেনস্থা করার ঘটনায় নিন্দা শুরু হয়েছে সভ্য সমাজে।

