
ওয়াশিংটন: ভারত-সহ অন্যান্য দেশের উপর যে অতিরিক্ত শুল্ক চাপিয়েছে আমেরিকা, তা অসাংবিধানিক। মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরই হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তারা ওই অতিরিক্ত শুল্ক নেবে না। একটি বিবৃতিও জারি করেছে হোয়াইট হাউস। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পৃথকভাবে সব দেশের উপর আপাতত ১০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর ঘোষণা করেন। সেক্ষেত্রে আমেরিকার বাজারে ভারতীয় পণ্যের আমদানি শুল্কও ১৮ শতাংশ থেকে নেমে গিয়েছে ১০ শতাংশে।
তবে, শুল্ক বিতর্কে ভারত-আমেরিকার বাণিজ্যচুক্তিতে কি কোনও প্রভাব পড়বে? এই বিষয়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য সমঝোতায় কোনও পরিবর্তন হবে না। তাঁর সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক দারুণ। আবারও একবার নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসা করে ভারত-আমেরিকার সম্পর্ক কতটা মজবুত তাও বুঝিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ভারত-আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “আমি মনে করি ভারতের সঙ্গে আমার সম্পর্ক দারুণ। আর আমরা ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য করছি। ভারত রাশিয়া থেকে তেল পাচ্ছিল। তারা আমার অনুরোধে রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করেছে। কারণ আমরা সেই ভয়াবহ যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটাতে চাই, যেখানে প্রতি মাসে ২৫ হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে।” এরপরই ভারত-আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তি প্রসঙ্গে ট্রাম্প জানান, কোনও কিছুই পরিবর্তন হচ্ছে না।
ট্রাম্প আরও জানান, ভারত শুল্ক দেবে কিন্তু আমেরিকা শুল্ক দেবে না। একইসঙ্গে নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, “আমি মনে করি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আসলে মহান মানুষ। ভারতের সঙ্গে আমরা যে চুক্তি করেছি, তা ন্যায্য চুক্তি। আমরা তাদের শুল্ক দিচ্ছি না। ভারত আমেরিকাকে শুল্ক দিচ্ছে।…তাই কোনও সমস্যা নেই। ভারতের সঙ্গে চুক্তি হচ্ছে, সব চুক্তি হচ্ছে।”
প্রসঙ্গত, শুক্রবারই ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘আন্তর্জাতিক আমদানি শুল্ক’-কে বেআইনি বলে ঘোষণা করেছে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। ট্রাম্পের বিশ্বব্যাপী শুল্কের প্রস্তাবও বাতিল করেছে। এরপরই ডোনাল্ড ট্রাম্প এই রায়কে ‘অত্যন্ত হতাশাজনক’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে। এরপরই সাধারণ শুল্কের পাশাপাশি বাড়তি ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের নির্দেশ দিয়েছেন। সেই নির্দেশিকায় সাক্ষরও করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। তবে, ১৫০ দিনের বেশি এই শুল্ক কার্যকর করা যায় না।