China-Bangladesh: ফের বেয়াদপি চিনের? ভারতকে ঘিরতে পাকিস্তান-বাংলাদেশে বিনিয়োগ!
চিনের সঙ্গে ঢাকার ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতাকে ভাল চোখে দেখছে না দিল্লি। বিশেষ করে তিস্তা প্রকল্পে চিনের আগ্রহ ভারতের নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এর জেরে শিলিগুড়ি করিডরের ঘাড়ের কাছেই ড্রাগনের নিঃশ্বাস পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের অনুমান, সেটাই চিনের আসল উদ্দেশ্য।

কথায় বলে না, মরলেও স্বভাব যায় না। ফের বেয়াদপি শুরু করেছে চিন। অরুণাচল প্রদেশের খুব কাছে চিনা সেনার ঘাঁটি তৈরির অভিযোগ তো ছিলই। এবার বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মতো জঙ্গি রাষ্ট্রকে নির্লজ্জের মতো সাহায্য করছে চিন। বাংলাদেশকে তিস্তা প্রকল্পে সাহায্যের অছিলায় ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কাছে নিজের নাক গলাচ্ছে বেজিং। অন্যদিকে, পাকিস্তানকে অন্তত আধডজন ফার্স্ট ক্লাস অ্যাটাক সাবমেরিন দিয়ে ইস্টার্ন ফ্ল্যাঙ্কেও কুনজর চিনের। তবে নয়া ভারতও চুপ করে বসে নেই। চিনের মিলিটারি আর্সেনালের সঙ্গে পাল্লা দিতে ভারতও নিজেদের পারমাণবিক দূরপাল্লার মিসাইলের বহর বাড়াচ্ছে।
বাংলাদেশ
তিস্তা চুক্তির নামে বাংলাদেশকে বিপুল আর্থিক সাহায্য করছে বেজিং। চুক্তির পোশাকি নাম ‘কম্প্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রেস্টোরেশন অফ তিস্তা রিভার প্রজেক্ট’। এই প্রকল্পে ১০২ কিলোমিটার নদীখাত খনন করে তিস্তার গভীরতা বৃদ্ধি, নদীর দু’পাশে ২০৩ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করে ভাঙন রোধ করা হবে। কিন্তু ভারতীয় প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের অনুমান, তিস্তা প্রকল্পে চিনের নাক গলানোর মানে, ভূকৌশলগত ভাবে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল চিনের আওতায় চলে আসবে।
চিনের সঙ্গে ঢাকার ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতাকে ভাল চোখে দেখছে না দিল্লি। বিশেষ করে তিস্তা প্রকল্পে চিনের আগ্রহ ভারতের নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এর জেরে শিলিগুড়ি করিডরের ঘাড়ের কাছেই ড্রাগনের নিঃশ্বাস পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের অনুমান, সেটাই চিনের আসল উদ্দেশ্য। একসময় শেখ হাসিনার আমলে তিস্তার উন্নয়ন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে দিল্লি ও ঢাকা অনেকটাই কাছাকাছি এসেছিল। কিন্তু বর্তমানে তারেক রহমানের বেজিং সফরের পর পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। তিনি শি জিনপিংয়ের দিকেই ঝুঁকেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

ভারতের আপত্তির আঁচ করেই তড়িঘড়ি বিবৃতি দিয়েছে চিনা বিদেশমন্ত্রক। তাদের দাবি, বাংলাদেশের সঙ্গে চিনের সম্পর্কের ফলে তৃতীয় কোনও দেশের উপর কোনও প্রভাব পড়বে না। তবে সেই ব্যাখ্যায় আশ্বস্ত নয় ভারত। কারণ, ইউনূস থেকে তারেক জমানায় চিন ও বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠতা আরও বেড়েছে। জুন মাসেই ২.৫ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে চিন থেকে ২৪টি J-10 যুদ্ধবিমান কিনেছে ঢাকা। পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরের কাছে বাংলাদেশের প্রথম সাবমেরিন ঘাঁটি তৈরি করছে বেজিং। ঢাকায় প্রথম ড্রোন উৎপাদন কারখানা খোলার আশ্বাসও দিয়েছে চিন। এছাড়া লালমনিরহাটে চিনের আর্থিক সাহায্যে একটি বায়ুসেনা ঘাঁটি তৈরি হচ্ছে। এই ঘাঁটি থেকে শিলিগুড়ির দূরত্ব মাত্র ১৩৫ কিলোমিটার।
পাকিস্তান
একদিকে বাংলাদেশকে সাহায্য করে উত্তর-পূর্ব সীমান্তে, অন্যদিকে পাকিস্তানকে সাহায্য করে ইস্টার্ন ফ্ল্যাঙ্ক-এ ভারতকে কোণঠাসা করতে চাইছে বেজিং? ১৯৭১-এ ভারতীয় নৌসেনা করাচি বন্দরের কাছে পাকিস্তানের খাইবার, পিএনএস গাজী, মুহাফিজের মতো ডেস্ট্রয়ার ডুবিয়ে দেয়। ৫৫ বছর পর ফের বঙ্গোপসাগরের কাছে ঘোরাফেরা করছে পাক নেভির যুদ্ধজাহাজ। ১১ জুন করাচি বন্দরে ভিড়েছে PNS হাঙর। আটটি আধুনিক অ্যাটাক সাবমেরিনের মধ্যে ৬টি চিনের বানানো। পাক নেভির যে কমান্ডার এই নৌবহরকে চিন থেকে পাকিস্তানে এসকর্ট করে এনেছেন, সেই ওমর ফারুক এদের গেম চেঞ্জার বলছেন। পাক সাবমেরিনের শক্তিবৃদ্ধি মানে ভারতীয় জলসীমায় ইসলামাবাদের কুনজর।

PNS হাঙর
চিনের চোখ রাঙানিকে অগ্রাহ্য করে ক্রমশ নিজের প্রতিরক্ষা কবচকে আরও মজবুত করছে ভারত। হামলায় সক্ষম পরমাণু বোমার সংখ্যা বাড়িয়ে ১৯০ করেছে দেশ। এই প্রথম দেশের সবদিকে ১২টি নিউক্লিয়ার ওয়ারহেড মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা খাতে ১.৭৮ লক্ষ কোটি টাকা খরচের রেকর্ড গড়েছে ভারত। চিন সীমান্তে মোতায়েন করা হয়েছে ২৪টি দূরপাল্লার অগ্নি-৫ ব্যালিস্টিক মিসাইল। ৩৫০০ কিলোমিটার পাল্লার ‘কে-৪’ মিসাইল রয়েছে পরমাণু সাবমেরিন আইএনএস অরিধমানে। হামলা থেকে সুরক্ষায় ভারতের আকাশে রয়েছে এয়ার ডিফেন্স ‘সুদর্শন চক্র’ এয়ার শিল্ড। পাশাপাশি ৫০ হাজারেরও বেশি হামলাকারী ড্রোন নিয়ে তৈরি করা হয়েছে অশনি প্ল্যাটুনও।
চিনা উস্কানির জবাব দিতে ভারতের ভাণ্ডারে আজ ব্রহ্মসের মতো মিসাইল, রাফালের মতো ফাইটার জেট, LAC-তে প্রচণ্ডের মতো লাইট কমব্যাট হেলিকপ্টার তো রয়েছেই। শুধু অস্ত্রে নয়, চিন সীমান্ত বরাবর ভারত পরিকাঠামোও নির্মাণ করছে দ্রুতগতিতে। সেলা টানেলের মতো অল ওয়েদার রোড, টানেল তৈরি। নজরদারি থেকে বাঁচতে অ্যান্টি-স্যাটেলাইট প্রযুক্তি বানিয়েছে ভারত। আন্দামান-নিকোবরে কমান্ড সেন্টার তৈরি করে ভারত মহাসাগরে নজরদারি বাড়িয়েছে।
