
তেহরান: এক বছরের ব্যবধানে দ্বিতীয়বার। নতুন করে লাল হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ। তেহরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর এ বার পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে ইরান। হামলার প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দিয়েই কিছুক্ষণের মধ্য়েই ইজরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে দেয় তেহরান। শুধু তা-ই নয়, ইরানের সংবাদসংস্থা ‘ফারস’এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইতিমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর দুবাই, আবু ধাবি, কুয়েত, কাতার এবং বাহরিনে হামলা চালিয়েছে ইরানি বাহিনী।
আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা এএফপি-কে আবু ধাবির দুই স্থানীয় জানিয়েছেন, রিয়াধ এবং দোহা থেকে লাগাতর বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। কিন্তু আচমকা ইজরায়েল-আমেরিকার জেরে তৈরি হওয়া ক্ষোভ মধ্যপ্রাচ্য়ের অন্য প্রতিবেশীদের উপর আক্রমণ করে কেন প্রশমিত করল ইরান?
আয়াতোল্লার সেনা আবু ধাবিতে যেখানে হামলা চালিয়েছে, সেখানে রয়েছে আমেরিকার ঘাঁটি। আল দাফরা নামে ওই ঘাঁটিতে একই সঙ্গেই কার্য পরিচালনা করে সৌদি-মার্কিন সেনা। একই ভাবে দোহার যেখানে হামলা চালিয়েছিল ইরান সেনা। সেখানে ২৪ হেক্টর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত রয়েছে মার্কিন এয়ারবেস। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, এই ইরানি হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে এ জনের মৃত্যু হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কাতারের রাজধানী দোহায় ভারতীয় দূতাবাস থেকে ইতিমধ্যে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। সকল ভারতীয়দের বাড়ির মধ্যে বা অন্য কোনও আশ্রয়ে থাকার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, শনিবার সকালে তেহরানে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইজরায়েল। এই হামলার বিষয়টি সুনিশ্চিত করেছেন খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সঙ্গে আমেরিকাও যে হামলা চালিয়েছে সেই দাবিও করেছেন তিনি। তারপরই ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পরমাণু প্রকল্প বন্ধ করার। যে পরমাণু প্রকল্প নিয়ে সংঘাত চড়েছিল গতবছরের জুন মাসেও। এক বছরও কাটেনি, আবার সে পুরনো বিবাদেই পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত চরমে।