
তেহরান: জনরোষে ইতি টানতে ‘ভাড়াটে যোদ্ধা’ এনেছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় গুরু আয়াতোল্লা আলি খামেনেই? এই নিয়েই জল্পনা তুঙ্গে। বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের জনরোষ থামাতে, উন্মত্ত জনতাকে ‘শিক্ষা দিতে’ হিজবুল্লা এবং শিয়া সশস্ত্র বিদ্রোহীদের মাঠে নামান ইরানের সুপ্রিম লিডার। তারপর দেশজুড়ে মৃত্যুমিছিল। যে দিকেই চোখ যায় রাস্তায় রক্তের দাগ, পড়ে সারি সারি মৃতদেহ।
জানুয়ারিতে গণবিক্ষোভ তীব্র হতেই ইরানি নিরাপত্তাবাহিনীকে ‘দেখামাত্র গুলি করার’ নির্দেশ দিয়েছিলেন খামেনেই। কিন্তু পাল্টা প্রতিরোধ থামেনি। ইরানের আর্থিক, সামাজিক এবং রাজনৈতিক অবক্ষয়কে সামনে রেখে, গুলি খেয়েও আন্দোলনকারীরা জিইয়ে রেখেছিলেন প্রতিরোধ। বেশ কিছু পশ্চিমী গণমাধ্য়মের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানি সেনার একাংশ গুলি চালাতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। নিজেদের লোককেই মারতে অস্বীকার করে তাঁরা। এই পরিস্থিতি আরবিভাষী শিয়া গোষ্ঠীগুলিকে তলব করেন খামেনেই। যোগাযোগ করেন ইরাকের যোদ্ধাদের সঙ্গেও।
সিএনএন-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত দু’সপ্তাহে অর্থাৎ যে সময় বিক্ষোভ পরিস্থিতি সবচেয়ে তীব্র রূপ ধারণ করেছিল, তখন প্রায় পাঁচ হাজার ইরাকের সশস্ত্র যোদ্ধা সীমান্ত হয়ে ইরানে প্রবেশ করেন। মায়সান প্রদেশ এবং ওয়াসিট প্রদেশ লাগোয়া সীমান্ত হয়েই খামেনেইয়ের দেশে ঢুকে পড়ে তাঁরা।
শুধু ইরাকের যোদ্ধা নয়, এই পথেই ইরানে প্রবেশ করেছে ৮০০-এর বেশি শিয়া যোদ্ধা এবং হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীর জঙ্গিরাও। প্রাথমিক ভাবে ৮০০ জনের কথা জানা গেলেও। পরবর্তীতে এই পথেই মোট ৫ হাজার যোদ্ধা ইরানে প্রবেশ করেছে বলেই নিজেদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে সিএনএন। সূত্রের খবর, আন্দোলন থামানোর নামে ইরান জুড়ে হত্যালীলার চালানোর মূলচক্রী ছিল এই যোদ্ধারা।
প্রসঙ্গত, সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, জনরোষ থেমে যাওয়ার পরও তেহরান-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ড্রোন উড়িয়ে আমজনতার উপর নজরদারি চালাচ্ছে খামেনেই প্রশাসন। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত এই বিক্ষোভে মৃত্যু হয়েছে আড়াই হাজারের অধিক আন্দোলনকারীর। তবে মিডল ইস্ট আই তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৫ হাজার বিক্ষোভকারীর।