
নয়াদিল্লি: ন্য়াটোর আকারে তৈরি হবে ইসলামিক ন্যাটো? বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে গুঞ্জন। সৌদি দেবে টাকা, পাকিস্তান দেবে পরমাণু এবং তুরস্ক আনবে অস্ত্র। তাতে জোর বাড়বে ইসলামিক রাষ্ট্র-চিন্তার, এমনটাই জল্পনা। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের বুকে মধ্যযুগীয় চিন্তা ভাবনার কারণ কী? ধর্মের ভিত্তিতে প্রতিরক্ষা গোষ্ঠী গঠনেরই বা কারণ কী?
ঘটনার সূত্রপাত গতবছরের সেপ্টেম্বর। সৌদি আরবের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করল পাকিস্তান। সেই চুক্তিতে সাফ বলা হয়েছে, যে কোনও একজনের হামলার সম্মুখীন হলে, প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত অন্য সদস্য়রাও তাঁকে বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়বে। এই চুক্তির শর্ত খুব চেনা। একেবারে ন্যাটো বাহিনীর মতো। একজন আক্রান্ত হলে প্রতিরক্ষায় সাহায্য করবে অন্যরা।
এবার পাকিস্তান-সৌদির এই চুক্তিতে সঙ্গী হবে তুরস্ক? সেই নিয়েও শুরু হয়েছে চর্চা। তুরস্ক ইতিমধ্য়েই ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্র। আমেরিকার পর ন্যাটো বাহিনীতে তাঁদের সামরিক ক্ষমতাই বেশি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ন্যাটোতে তো তারা থাকছেই, কিন্তু তারপরেও পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সঙ্গী হতেও মরিয়া তুরস্ক। এই নিয়ে দফায় দফায় আলোচনা চলছে ঘনিষ্ঠ তিন রাষ্ট্রের মধ্যে। পাকিস্তান-সৌদির চুক্তিতে যোগ দিয়ে ইসলামিক ন্যাটোর ভিত্তি স্থাপনে মরিয়ে এর্ডোগানের দেশ।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ইসলামিক দুনিয়ার লড়াইকে মাথায় রেখেই এই সামরিক গোষ্ঠী তৈরি করতে চায় তুরস্ক। বিশ্বের সমস্ত মুসলিম জনগণের মধ্যে ৯০ ভাগ সুন্নি সম্প্রদায়ভুক্ত। অন্যদিকে শিয়া মুসলিমরা একেবারেই সংখ্য়ালঘু বললেই চলে। গোটা মধ্য়প্রাচ্য়জুড়ে বেশির ভাগ দেশ ইসলামিক হলেও, তাঁদের মধ্যে বিভেদের জায়গা এই একটাই। তাই শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ ইরান, ইরাক, আজ়ারবাইজ়ান এবং বাহরেইনকে ছাঁটাই করে, সুন্নি-পূর্ণ ইসলামিক ন্যাটো তৈরির স্বপ্ন দেখছে তুরস্ক।