Pakistani airlines: রমজানে রোজা রাখলে উঠতে দেওয়া হবে না বিমানে, কড়া নির্দেশ পাকিস্তানে
Pakistani airlines: পবিত্র রমজান মাসে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের রোজা বা উপবাস রাখাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু, পাইলট এবং কেবিন ক্রুদের জন্য ভিন্ন নির্দেশ জারি করল পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স বা পিআইএ। রমজানে রোজা রাখতে বারণ কেন করছে তারা?

ইসলামাবাদ: পবিত্র রমজান মাসে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের রোজা বা উপবাস রাখাটাই স্বাভাবিক। তবে, পাকিস্তানের জাতীয় উড়ান সংস্থা পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স বা পিআইএ-র পাইলট এবং কেবিন ক্রুরা চলতি রমজান মাসের সকল দিনে, রোজা রাখতে পারবেন না। বুধবার পিআইএ-র পক্ষ থেকে তাদের সমস্ত পাইলট এবং কেবিন ক্রুদের নির্দেশ দিয়েছে, যে যে দিন ডিউটি থাকবে, সেই দিনগুলিতে রোজা রাখা যাবে না। রোজা রাখলে, ওই দিন ডিউটিতে যোগ দেওয়া যাবে না।
এক মেডিকেল সুপারিশের বিত্তিতে এই নির্দেশ জারি করেছে পাক উড়ান সংস্থা। সংস্থা বলেছে, রোজা রেখে কোনও পাইলট বা কেবিন ক্রু বিমান ওড়াতে গেলে, তাঁদের নিজেদের জীবনের ঝুঁকি তো তৈরি হবেই, সেই সঙ্গে অন্যদেরও প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। মেডিক্যাল সুপারিশে আরও বলা হয়েছে, রোজা পালন করার সময়, কোনও ব্যক্তির ডিহাইড্রেশনের শিকার হতে পারেন। এছাড়া, আলস্য এবং ঘুম ঘুম ভাবও গ্রাস করতে পারে তাকে। পাক সংবাদমাধ্যমগুলির প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোজার সময় পাইলট ও কেবিন ক্রুদের মনঃসংযোগ কমে যেতে পারে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমে যেতে পারে। স্ট্যামিনাও কমে যায়।
এর ফলে, নিরাপত্তাগত বিরাট ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। অতএব, অবিলম্বে পাইলট এবং কেবিন ক্রুদের ডিউটির দিনগুলিতে রোজা না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক এবং দেশিয়, সকল উড়ানের জন্য নিয়মটা অভিন্ন। পিআইএ-র নির্দেশে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, কোনও পাইলট বা ক্রু উপোসে থাকলে, তাঁকে বিমানে উঠতেই দেওয়া হবে না।
আসলে, পাইলট ও কেবিন ক্রুদের রমজান মাসে রোজা রাখা উচিত কিনা এই নিয়ে কয়েক বছর আগে পাকিস্তানে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছিল। এই বিতর্কের সূচনা হয়েছিল এক বিমান দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ২০২০ সালের মে মাসে, করাচি বিমানবন্দরের কাছে এক আবাসিক সোসাইটিতে ভেঙে পড়েছিল পিআইএ-র একটি এয়ারবাস। ওই মারাত্মক দুর্ঘটনায় ১০১ জনের প্রাণ গিয়েছিল। তদন্তে জানা গিয়েছিল, মানবিক ত্রুটিই এই দুর্ঘটনার কারণ। দেখা গিয়েছিল, অবতরণের সময় সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগেছিলেন পাইলটরা। যে দুই পাইলট বিমানটি চালাচ্ছিলেন, তাদের মধ্যে একজন রমজান মাসের রোজা পালন করছিলেন। এই বিষয়ে এতদিন পর্যন্ত পিআইএ-র পক্ষ থেকে কোনও স্পষ্ট নির্দেশ ছিল না।
