Explained: পুতিনের কোটি কোটি টাকার রাজপ্রাসাদ গুঁড়িয়ে দিচ্ছে ইউক্রেন
প্রাসকোভিভকা গ্রাম থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে নির্জন এলাকায় ১৭,৭০০ স্কয়ার ফুটের এই প্রাসাদ পুতিনের গর্বের প্রতীক। প্রাসাদের ভিতর আইস প্যালেস, ক্যাসিনো, থিয়েটার, চার্চ, আঙুর খেত তো রয়েছেই। তবে যে কারণে পুতিনের এই প্রাসাদ বিশেষ পছন্দ সেটা হল এর নিচে রয়েছে একটি গোপন সুড়ঙ্গ। এই সুড়ঙ্গের রাস্তা সরাসরি কৃষ্ণ সাগরের তীরে গিয়ে মেশে। বিশেষ প্রয়োজনে পালানোর জন্য এই রাস্তা বানানো হয়েছিল প্রেসিডেন্টের প্যালেসে।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিলাসবহুল প্যালেস- গেলেনঝিক। তবে রাশিয়াতে সবাই বলে- পুতিনের প্যালেসে। দাম প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার। না, আজ আপনাদের সেই রাজপ্রাসাদের ভিতরের গল্প বলব না। আজ বলব, কীভাবে কৃষ্ণসাগরের তীরে ১৮ হাজার স্কোয়ার ফুটের এই ১০ হাজার কোটি টাকার প্রাসাদকে কীভাবে প্রায় ধ্বংস করে ফেলছে ইউক্রেনের সেনা। মিসাইল-ড্রোন দেগে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে প্রাসাদের বাইরের ডিফেন্স সিস্টেমকে।
১ বিলিয়ন ডলারের পুতিনস প্যালেস আজ ধ্বংস হওয়ার মুখে। সপ্তাহদেড়েক আগে থেকে রুশ প্রেসিডেন্টের বিলাসবহুল প্রাসাদ লক্ষ্য করে একটানা হামলা চালাচ্ছে ইউক্রেন। এতদিন এই প্রাসাদকে সুরক্ষা দিত ‘ভোলনা কুপল গ্যারান্ট ইলেক্ট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম’। সঙ্গে ছিল রাশিয়ার বিখ্যাত এস-৪০০ অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট মিসাইল সিস্টেম। এই দুই সুরক্ষা কবচই এখন ক্ষতিগ্রস্ত। স্যাটেলাইট ইমেজে ধরা পড়েছে- পুতিনের প্রাসাদ এখন প্রায় অসুরক্ষিত, কবচ-হীন। শুধু ৯ অগাস্ট, এক রাতেই জোড়া কবচ লক্ষ্য করে পরপর ড্রোন, ক্রুজ ও দূরপাল্লার মিসাইল ছুড়েছে ইউক্রেনের সেনা।

প্রাসকোভিভকা গ্রাম থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে নির্জন এলাকায় ১৭,৭০০ স্কয়ার ফুটের এই প্রাসাদ পুতিনের গর্বের প্রতীক। প্রাসাদের ভিতর আইস প্যালেস, ক্যাসিনো, থিয়েটার, চার্চ, আঙুর খেত তো রয়েছেই। তবে যে কারণে পুতিনের এই প্রাসাদ বিশেষ পছন্দ সেটা হল এর নিচে রয়েছে একটি গোপন সুড়ঙ্গ। এই সুড়ঙ্গের রাস্তা সরাসরি কৃষ্ণ সাগরের তীরে গিয়ে মেশে। বিশেষ প্রয়োজনে পালানোর জন্য এই রাস্তা বানানো হয়েছিল প্রেসিডেন্টের প্যালেসে। স্বাভাবিক এর উপর দিয়ে বা আশেপাশে কোনও বিমান বা গাড়ি যেতে পারে না। গোটা প্রাসাদের চারপাশের ১২ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বসানো এস-৪০০-এর মতো সারফেস টু এয়ার মিসাইল ডিফেন্স সিটেম। কিন্তু চলতি মাস থেকে পুতিনের সাধের এই প্রাসাদের বাইরের কাঠামোয় বারবার আঘাত করছে ইউক্রেন।
৭ অগাস্ট
- দূরপাল্লার ড্রোন হামলা চালিয়ে ধ্বংস ইলেক্ট্রনিক ওয়ারফেয়ারের ব্ল্যাঙ্কেট
- এই সিস্টেম প্রাসাদের আশেপাশে শত্রুর ড্রোন কমিউনিকেশন জ্যাম করত
৯ অগাস্ট
- রাতে প্রাসাদের এস-৪০০ সিস্টেম ধংস করে ইউক্রেনের সেনা
- আশেপাশের ২০ কিমি এলাকা এখন কার্যত নিরাপত্তাহীন, দাবি কিভের
১০ অগাস্ট
- লাগাতার হামলার জেরে ‘টোটাল ক্লোজার’ উদ্বিগ্ন মেয়রের
- জল বা সড়কপথে গ্রামে ঢোকা বা বেরোনো নিষিদ্ধ
- বিচের ধারে সিভিলিয়ন যাওয়ায় সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা

শুধু যে প্রাসাদের বাইরের দেওয়ালে হামলা হয়েছে তা নয়, সমুদ্রের তীরে FSB-র যে পেট্রোলিং জাহাজগুলি টহল দেয়, সেগুলোতেও হামলা হচ্ছে নিয়মিত। যদিও স্থানীয় মেয়র মস্কো টাইমসকে জানিয়েছেন, এস-৪০০-এ ড্রোন হামলা চালিয়ে এই প্রাসাদের ক্ষতি করা সম্ভব নয়। কারণ, এই প্রাসাদ মাটির নিচে ১৬ তলা জুড়ে ছড়িয়ে। সবচেয়ে নিচের বাঙ্কারটি এমনভাবে তৈরি যাতে পরমাণু বোমা হামলা আটকাতে পারে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধে যে ইউক্রেন জিতছে এমন নয়। কিন্তু মস্কো-সহ রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ধ্বংস করা এখন কিভের নয়া যুদ্ধ নীতি। সেই নীতিরই পরিকল্পনামাফিক এবার পুতিনের বাড়ির দোরগোড়ায় এই যুদ্ধকে পৌঁছে দিচ্ছে ইউক্রেন। পুতিনের এই প্রাসাদ ক্রেমলিনের দুর্নীতি, অহঙ্কারের প্রতীক। এই প্রাসাদে হামলা চালিয়ে ইউক্রেন বোঝাচ্ছে– রাশিয়ার সেনা যত চেষ্টাই করুক না কেন, যত পাহারা-ই দিক না কেন, কিভের হামলা থেকে বাঁচতে পারবে না।
