
নয়াদিল্লি: মামদানির শহরে ‘বন্দি’ হলেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টে নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী। শনিবার ভেনেজুয়েলায় এই দু’জনকে তুলে নিয়ে আসে আমেরিকার ডেল্টা ফোর্স। এরপর রবিবার নিউ ইয়র্কের জেলে আটক করা হল মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে। নতুন বছরে এই শহরের দায়িত্ব নিয়েছেন ‘বামমনস্ক’ রাজনীতিক জ়োহরান মামদানি। নতুন মেয়র হয়েছেন তিনি। তারপরই তাঁর শহরের জেলেই মাদুরোকে আটক করলেন ট্রাম্প।
মাদুরো-সিলিয়াকে নিউ ইয়র্কে পাঠানোর কথা নিশ্চিত করেছেন আমেরিকার অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি। এদিন মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলিকে তিনি জানান, নিউ ইর্য়কের দক্ষিণ দিকের একটি জেলে তাঁদের বন্দি করা হয়েছে। কিন্তু ঠিক কী অভিযোগের বিরুদ্ধে মাদুরোকে পাকড়াও করেছে ট্রাম্পের সেনা?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে ‘অবৈধ শাসক’ বলে অভিহিত করলেও, আপাতত তাঁর বিরুদ্ধে ‘মাদক-সন্ত্রাস’ চালানোর অভিযোগ দায়ের করেছে ট্রাম্পের প্রশাসন। মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছেন, মাদুরোর সরকার আন্তর্জাতিক স্তরে মাদক চক্রে চালায়। তাই সেই মর্মে মাদুরো, তাঁর স্ত্রী ও ছেলে-সহ মোট ছয় জনের বিরুদ্ধে ‘মাদক-সন্ত্রাস’, অস্ত্র-পাচার-সহ একাধিক ধারায় মামলা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সমস্ত আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্খন করে অন্য দেশের প্রেসিডেন্টকে আটক করার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে উঠেছে নিন্দার ঝড়। ইতিমধ্য়েই ভেনেজুয়েলায় জারি হয়েছে জরুরি অবস্থা। স্থানীয় মানুষজনের দাবি, শুক্রবার মধ্যরাতে হামলার পরে ট্রাম্পের সেনা ভেনেজুয়েলা ছাড়েনি। মাঝে মধ্যেই মার্কিন বিমান আকাশ দিতে উড়ে যাচ্ছে। ট্রাম্প যে আরও কোনও বড় পরিকল্পনা করছে না, তাতে সিলমোহর দিতে পারছেন না আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।
ভেনেজুয়েলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘লাগামহীন’ দাপটের ঘটনায় আগামিকাল রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে আয়োজিত হতে চলেছে জরুরি বৈঠক। জানা গিয়েছে, কলোম্বিয়ার অনুরোধে এই বৈঠক আয়োজনে অনুমোদন দিয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জ। পাশাপাশি, এই বৈঠকের জন্য কলোম্বিয়ার আবেদনে সমর্থন জানিয়েছে নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য চিন এবং স্থায়ী সদস্য রাশিয়াও।