US-Iran War: ইরানের লারাক দ্বীপে হামলা আমেরিকার, ড্রোন দিয়ে পাল্টা জবাব দিল তেহরানও
US-Iran War: ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মার্কিন হামলায় কয়েকজন ইরানি সেনা ও সাধারণ নাগরিক নিহত এবং আহত হয়েছেন। IRGC-র এক মুখপাত্রের দাবি, লারাক দ্বীপে হামলার জন্য আমেরিকাকে অর্থনৈতিক ও সামরিক-দুই দিক থেকেই মূল্য চোকাতে হবে। জানা গিয়েছে, ড্রোনের মাধ্যমে হামলা চালানো হয়েছিল।

ওয়াশিংটন ও তেহরান: ফের শুরু সংঘাত। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল সম্পর্ক। হরমুজ প্রণালীতে (Strait of Hormuz) সি মাইন (Sea Mine) পুঁততে পারে ইরান, এই অভিযোগ তুলে ইরানের লারাক দ্বীপে সামরিক হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। এরপরই পাল্টা জবাব দেয় তেহরান। ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) জানিয়েছে, লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলার জবাবে তারা জর্ডনে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
নতুন করে হামলাকে কেন্দ্র করে ফের মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে উঠেছে। জুন মাসের পর থেকে তুলনামূলকভাবে শান্ত ছিল আমেরিকা-ইরান। বড়সড় সংঘাতে জড়ায়নি তারা। তবে এই ঘটনায় নতুন করে বড় সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
লারাক দ্বীপে হামলা আমেরিকার-
জানা গিয়েছে, রবিবার লারাক দ্বীপে ইরানের দুটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকারী লঞ্চারকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় মার্কিন সেনা। মার্কিন এক আধিকারিকের দাবি, ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-র সদস্যদের এমন রকেট প্রস্তুত করতে দেখা গিয়েছিল, যেগুলির মাধ্যমে হরমুজ প্রণালীতে সমুদ্রে মাইন ছোড়ার প্রস্তুতি চলছিল।
জুলাইয়ের শেষের পর ইরানের ভূখণ্ডে এটিই প্রথমবারের মতো মার্কিন হামলা। এর আগে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে প্রায় দু’সপ্তাহের সামরিক অভিযান চালানোর পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তা থামিয়ে দিয়েছিলেন।
পাল্টা হামলা ইরানের-
লারাক দ্বীপে হামলার পরই আমেরিকাকে পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড। এবার সেই হুঁশিয়ারি মতোই হামলা করল তেহরান। ইরানের সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, জর্ডনে থাকা কিং হুসেইন এবং আল আজরাক মার্কিন ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলার প্রতিশোধ হিসাবেই এই আক্রমণ বলে দাবি করেছে ইরান।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মার্কিন হামলায় কয়েকজন ইরানি সেনা ও সাধারণ নাগরিক নিহত এবং আহত হয়েছেন। IRGC-র এক মুখপাত্রের দাবি, লারাক দ্বীপে হামলার জন্য আমেরিকাকে অর্থনৈতিক ও সামরিক-দুই দিক থেকেই মূল্য চোকাতে হবে। জানা গিয়েছে, ড্রোনের মাধ্যমে হামলা চালানো হয়েছিল।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এই সরু জলপথ। বিশ্বের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) এই পথ দিয়েই পরিবহণ করা হয়।
বর্তমান সংঘাতের আগে বিশ্বের মোট তেল ও এলএনজি (LNG) সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করত। ফলে এই জলপথে কোনও ধরনের সামরিক সংঘাত বা অবরোধ বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ এবং জ্বালানির দামের উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ লারাক দ্বীপ?
লারাক ইরানের একটি ছোট দ্বীপ। হরমুজ প্রণালীর মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় অবস্থিত এই দ্বীপটির আয়তন প্রায় ৪৯ বর্গকিলোমিটার। বান্দার আব্বাসের উপকূলের কাছে এবং কেশম দ্বীপের পূর্ব দিকে অবস্থিত লারাক।
দ্বীপটিতে IRGC নৌবাহিনীর একটি ঘাঁটি রয়েছে বলে জানা যায়। হরমুজ প্রণালীর জাহাজ চলাচলের পথের উপর নজরদারির ক্ষেত্রে লারাকের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে এই দ্বীপে সামরিক পরিকাঠামো ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিরও উল্লেখ পাওয়া যায়।
