US Tariff: ফের শুল্ক-বাণ আমেরিকার, এবার বড় সমস্যায় পড়তে চলেছে ভারত?
US Tariffs on India: হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, যে দেশগুলিতে জোরপূর্বক শ্রম দিয়ে তৈরি পণ্য আমদানির বিরুদ্ধে কোনও আইন নেই, যেমন চিন, ব্রিটেন ও জাপান, তাদের ক্ষেত্রে ১২.৫ শতাংশ শুল্ক বসবে। অন্যদিকে, ভারত, শ্রীলঙ্কা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো দেশগুলিতে এ ধরনের আইন থাকলেও তা কার্যকর করা হয়নি।

ওয়াশিংটন: ভারতের উপর নতুন করে আমদানি শুল্ক চাপাল আমেরিকা (America Tariff)। এর আগে ট্রাম্পের জারি করা ১০ শতাংশ আমদানি শুল্কের (America Tariff on India) মেয়াদ শেষ হচ্ছে আজই। তারপরই নতুন শুল্ক আরোপ করা হবে। ভারত-সহ আরও ৬০টি দেশের উপরই এই আমদানি শুল্ক চাপানো হচ্ছে। অভিযোগ, দেশগুলি জোরপূর্বক শ্রম (Forced Labour) দিয়ে তৈরি পণ্যের আমদানি রোধে যথেষ্ট কঠোর ব্যবস্থা নেয়নি। সেই কারণেই অতিরিক্ত শুল্ক দিতে হবে। জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলির পণ্যের উপর ১০ শতাংশ থেকে ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করবে আমেরিকা।
কত শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত?
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, যে দেশগুলিতে জোরপূর্বক শ্রম দিয়ে তৈরি পণ্য আমদানির বিরুদ্ধে কোনও আইন নেই, যেমন চিন, ব্রিটেন ও জাপান, তাদের ক্ষেত্রে ১২.৫ শতাংশ শুল্ক বসবে। অন্যদিকে, ভারত, শ্রীলঙ্কা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো দেশগুলিতে এ ধরনের আইন থাকলেও তা কার্যকর করা হয়নি। সেই কারণে ভারত-সহ একাধিক দেশে ১০ শতাংশ শুল্ক বহাল থাকবে। তবে, মার্কিন-মেক্সিকো-কানাডা বাণিজ্য চুক্তি (USMCA)-র আওতায় থাকা পণ্য এবং তেল-গ্যাসের মতো কিছু আমদানিকে এই নতুন শুল্কের বাইরে রাখা হয়েছে।
কখন থেকে কার্যকর?
শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিট (মার্কিন সময়) থেকে কার্যকর হয়েছে নতুন শুল্ক। একই সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের আগে জারি করা অস্থায়ী ১০ শতাংশ আমদানি শুল্কের মেয়াদ শেষ হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ২০২৫ সালের তথাকথিত ‘লিবারেশন ডে’ ট্যারিফ বাতিল হওয়ার পর ওই অন্তর্বর্তী শুল্ক চালু করা হয়েছিল।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, “প্রায় একশো বছর ধরে আমেরিকায় জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং তা কঠোরভাবে কার্যকর করা হয়। এবার সময় এসেছে আমাদের বাণিজ্য অংশীদাররাও একই পদক্ষেপ করুক।”
ভারতের ক্ষেত্রে কী পরিবর্তন হল?
নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ভারতের উপর মোট শুল্ক ১০ শতাংশই থাকছে। আগে ট্রাম্প প্রশাসন জোরপূর্বক শ্রম সংক্রান্ত আইন যথাযথভাবে কার্যকর না করার অভিযোগে ভারতের উপর অতিরিক্ত ১২.৫ শতাংশ শুল্ক চাপানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিল।
তবে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ভারত, কম্বোডিয়া, গুয়াতেমালা, শ্রীলঙ্কা এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগো-সহ কয়েকটি দেশ ইতিমধ্যেই জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানির বিরুদ্ধে আইন প্রণয়ন করেছে বা সে বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সেই কারণেই ভারতের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ শুল্কই বহাল রাখা হয়েছে।
আরও শুল্ক চাপানোর সম্ভাবনা
‘ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসন আরও এক দফা নতুন শুল্ক ঘোষণা করতে পারে। সেই শুল্ক মূলত এমন দেশগুলির বিরুদ্ধে প্রযোজ্য হবে, যারা অতিরিক্ত উৎপাদনে সরকারি ভর্তুকি দিয়ে বিশ্ববাজারে কম দামে পণ্য রফতানি করে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এতে মার্কিন শিল্প সংস্থাগুলি প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে।
