
ঢাকা: মিটেছে বাংলাদেশের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নির্বাচন। যে ভোট করানো নিয়ে একসময় বারংবার প্রায় প্রতিটি রাজনৈতিক দলের প্রশ্নে বিদ্ধ হতে হয়েছিল বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে। সেই ভোট করিয়ে এখন ‘দায়মুক্ত’ তিনি। সম্পূর্ণ হয়েছে হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার মধ্যে দিয়ে তাঁর পাওয়া দায়িত্ব। তা হলে এই অপরাহ্ন বেলায় আবার কি নিজের পুরনো বাসস্থানেই ফিরে যাবেন ইউনূস? বাংলাদেশ ছেড়ে আবার বিদেশ চলে যাবেন তিনি?
আগামিকাল অথবা মঙ্গলবারের মধ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথপাঠ করতে পারেন খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান। তারপর সাংবিধানিক ভাবে একেবারেই গুরুত্বহীন হয়ে পড়বেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা। বিশেষ করে প্রধান উপদেষ্টা। কিন্তু মুহাম্মদ ইউনূসকে গুরুত্বহীন করতে সম্ভবত চায় না বিএনপি। এনডিটিভি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তেমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছেন বিএনপির বিদেশ উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর।
তাঁর দাবি, তারেক রহমান মন্ত্রিসভায় সবচেয়ে উপযুক্ত ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্বদের রাখতে চান। কিন্তু কাকে কী দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। হুমায়ুনের কথায়, “তারেক রহমান নিজের মন্ত্রিসভা নিয়ে দেশের বিশিষ্ট নাগরিকদের সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহী। মানুষের থেকে পরামর্শ নিতে চান তিনি। স্বাভাবিকভাবেই সেই তালিকায় অধ্য়াপক ইউনূসও রয়েছেন।” তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় ইউনূস যে থাকতে পারেন, সেই জল্পনাকেও কার্যত উস্কে দিয়েছেন হুমায়ুন। তাঁর কথায়, “রাজনীতিতে কিছু অসম্ভব নয়। তারেক রহমান দেশের স্বার্থেই সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি যদি বোঝেন কারওর দক্ষতা রয়েছে, তা হলে তাঁকে মন্ত্রিসভাতে জায়গা দিতেই পারেন।”
তবে একাংশ যেমন মনে করছেন ইউনূসকে আবার কোনও উপদেষ্টা পদেই দেখা যাবে, অন্য অংশ বলছে, রাষ্ট্রপতি পদ পাওয়ার কথা। বাংলাদেশ নিয়ে লেখালেখি করা ডেভিড বার্গম্যান নিজের সাম্প্রতিক একটি পোস্টে লিখেছেন, “মুহাম্মদ ইউনূস, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদগ্রহণ করলে, সেই দেশের মানুষই লাভবান হবেন।” কিন্তু ইউনূস কি সে রকমটা ভাবেন? তাঁর মনের কোণে কি ক্ষমতায় ফেরার চাহিদা তৈরি হয়েছে? এই প্রসঙ্গে এককালে তিনি নিজেই বলেছিলেন, সরকারের দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর তিনি আগের কাজে ফিরে যাবেন। গ্রামীণ ব্যাঙ্ক বা অন্য কোনও সমাজসেবা মূলক কাজে যুক্ত হবেন।