
তেহরান: কোনও সুযোগ দেওয়া যাবে না। গতবার মার্কিন হামলার পূর্বেই বাঙ্কারে প্রবেশ করেছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা খামেনেই। সেই ভুল আবার করা যাবে না, তাই সুযোগ বুঝেই খামেনেই উপর আকস্মিক আক্রমণ। বেছে নেওয়া হয় শনিবার সকালকেই। গত কয়েক মাস ধরেই ইরানকে ঘেরাওয়ের চেষ্টা চালাচ্ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। হাওয়ার যে ভার বাড়ছে, তা টের পেয়েছিলেন খামেনেই নিজেও। শনিবার সন্ধ্যায় একটি গুরুত্বপূর্ণ রুদ্ধদ্বার বৈঠক করার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু আচমকাই বৈঠকের সময় বদলে যায়। সন্ধ্যার পরিবর্তে সকালেই বৈঠকের ডাক। সেই খবর পেয়ে যায় আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা। নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিআইএ ‘গ্রিন সিগন্যাল’ দিতেই ভয়াবহ হামলা চালায় ইজরায়েল।
ইতিমধ্য়ে খামেনেইয়ের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে ইরান। তাদের সরকারি সংবাদসংস্থার দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলার সময় খামেনেই নিজের কাজের জায়গায় ছিলেন এবং দায়িত্বপালন করছিলেন। তখনই ভোরের দিকে ‘কাপুরুষোচিত’ভাবে হামলা চালানো হয়েছে।
দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার মৃত্যুর পরে আরও ফুঁসে উঠেছে ইরান। ইতিমধ্যে জারি হয়েছে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক। ইরানের রিভোলিউশনারি গার্ডস বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, খামেনেইয়ে ‘হত্যার’ জন্য যাঁরা দায়ী, তাঁদের বিরুদ্ধে এই বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অপারেশন চালানো হবে। তবে একা খামেনেই নন, ইজরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মৃত্য়ু হয়েছে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আমির নাসিরজাদা এবং ইরিভলিউশনারি গার্ডসের কমান্ডর মোহাম্মদ পাকপৌরের। অর্থাৎ মধ্যপ্রাচ্যে বেজে ওঠা রণডঙ্কায় অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে ইরান। বিরাট সেনাশক্তি নিয়েও এখনও এই যুদ্ধে দাগ কাটতে পারেনি তাঁরা।