
নয়া দিল্লি: যুদ্ধের আঁচে জ্বলছে ইরান। পুড়ছে মধ্য প্রাচ্য়ও। আর এই সংঘাতের জেরেই মাথায় হাত মধ্যবিত্তের। তার কারণ ইরানের সঙ্গে ইজরায়েল-আমেরিকার সংঘাত শুরু হতেই বিশ্ববাজারে তেলের সঙ্কট দেখা গিয়েছে। হরমুজ প্রণালীর মধ্যে দিয়ে তেল আমদানি অনেকটাই সীমিত হয়ে গিয়েছে। ইরান, ইরাক, কাতারের তেলের ঘাঁটিতে হামলার জেরে তেল উত্তোলনেও প্রভাব পড়েছে। স্বাভাবিকভাবেই তেলের সঙ্কট তৈরি হয়েছে। ভারতেও এলপিজির সঙ্কট দেখা দিয়েছে। দাম বাড়ানো হয়েছে রান্নার গ্যাসের।
এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়তেই মধ্যবিত্তের নতুন মাথা ব্যথা তৈরি হয়েছে কম গ্যাস খরচ করে কীভাবে রান্না করা যায়। অনেকেই কম আঁচে বা সেদ্ধ করে রান্না করছেন। তবে সিলিন্ডারে যদি গণ্ডগোল থাকে, তবে হাজার চেষ্টা করলেও এলপিজি সিলিন্ডার এক মাসের বেশি চলবে না। অনেক সময় সিলিন্ডারে যেমন লিকেজ থাকে, তেমনই আবার সঙ্কটের সময় নানা ধরনের প্রতারণাও হচ্ছে এলপিজি সিলিন্ডার নিয়ে। এই ধরনের প্রতারণা থেকে নিজেকে কীভাবে সুরক্ষিত রাখবেন?
গৃহস্থের বাড়িতে ১৪.২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করা হয় আর দোকান-হোটেল-রেস্তোরাঁতে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডার ব্যবহার হয়। নতুন সিলিন্ডার নেওয়ার সময় সবার প্রথমেই দেখে নেওয়া দরকার যে সেই সিলিন্ডারটি সিল করা আছে কি না। প্রতিটি এলপিজি সিলিন্ডারেই প্লাস্টিকের সেফটি সিল থাকে ভালভের চারদিকে। যদি দেখেন যে এই সেফটি সিল নেই বা তা কোনওভাবে ছিঁড়ে গিয়েছে, তাহলে সেই সিলিন্ডার না নেওয়াই শ্রেয়।
গ্যাস ডেলিভারির সময় অবশ্যই দেখে নিন যে সিলিন্ডারের ওজন ১৪.২ কেজি রয়েছে কি না। ডেলিভারি এজেন্টদের কাছে ওজন মাপার স্কেল রাখা বাধ্যতামূলক, তাই অবশ্যই সিলিন্ডারের ওজন মেপে নেবেন। এর জন্য কোনও অতিরিক্ত চার্জ লাগে না।
সিলিন্ডারের ভালভ ভালো করে যাচাই করে দেখে নেওয়া দরকার যে তাতে কোনও লিক রয়েছে কি না। যদি গ্যাস ডেলিভারির পরই আপনার নাকে গ্যাসের গন্ধ আসে, তার মানে ওই সিলিন্ডারে লিক রয়েছে। ওই সিলিন্ডার ব্যবহার করবেন না। সঙ্গে সঙ্গে ডেলিভারি এজেন্ট ও গ্যাস কোম্পানিকে খবর দিন।
আপনার গ্যাস সিলিন্ডার কতদিন চলছে, তার দিকে নজর রাখুন। গৃহস্থের বাড়িতে সাধারণত এক থেকে দুই মাস চলে এলপিজি সিলিন্ডার। যদি দেখেন যে কম ব্যবহার করার পরও গ্যাস সিলিন্ডার দ্রুত ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে, তাহলে কোনও সমস্যা হতে পারে।
সবসময় অফিশিয়াল ওয়েবসাইট বা রেজিস্টার্ড অ্যাপ থেকে গ্যাস বুক করুন। অন্য কোথাও থেকে এলপিজি সিলিন্ডার নেবেন না। রিসিপ্ট ছাড়া কখনও গ্যাস সিলিন্ডার নেবেন না।