
ইতিমধ্যেই পৃথিবীর চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে আমাদের দেশ ভারত। আর অর্থনীতির ক্ষেত্রে ভারতের এই রকেট গতির পিছনে ভারী শিল্প ছাড়াও রয়েছে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্পও। আর এবার এই ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্পকে আরও শক্তিশালী করতে এবার দেশে উদ্যোগপতি তৈরি করতে উঠে পড়ে লাগল দেশের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক।
শুক্রবার মুদ্রানীতি কমিটির সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে গিয়ে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা জানান, এমএসএমইর জন্য জামানত বিহীন ঋণের সীমা ১০ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ লক্ষ টাকা করা হচ্ছে। অর্থাৎ, এখন থেকে ব্যবসার জন্য ঋণ প্রয়োজন হলে আর কিছু বন্ধক রাখতে হবে না। ফলে, ব্যবসায়ীরা সহজেই ঋণ নিতে পারবেন। ফলে তাঁরা খুব সহজেই ব্যবসাও করতে পারবেন।
রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্ট বা REITs-এর জন্যও পথ খুলে দিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। আগামীতে দেশের একাধিক ব্যাঙ্ক ঋণ দিতে পারবে রিটকে। অফিস, শপিং মল, আবাসন বা গুদামের মতো ক্ষেত্রে বিনিয়োগের জন্য রিট বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এর আগেই বাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবি রিটকে ইক্যুইটি হিসাবে চিহ্নিত করেছে। আর এবার রিজার্ভ ব্যাঙ্কের এই সিদ্ধান্তে আরও চাঙ্গা হবে এই ক্ষেত্র।
শহরের সমবায় ব্যাঙ্কের ক্ষেত্রেও কড়া নজরদারির কথা জানিয়েছেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর। নিরাপদ নয় এমন ঋণে সীমা বসানো হবে। পাশাপাশি ব্যাঙ্কগুলোর দক্ষতা বৃদ্ধি করতে চালু হচ্ছে ‘মিশন সক্ষম’। এই প্রকল্পের অধীনে ১ লক্ষ ৪০ হাজারের বেশি কর্মী প্রশিক্ষণ পাবেন।
এদিকে ইকোনমিক সার্ভে জানাচ্ছে, এমএসএমই খাত দেশের মোট উৎপাদনের ৩৫ শতাংশের বেশি, রফতানির ৪৮ শতাংশের বেশি ও জিডিপির ৩১ শতাংশের বেশি অবদান রাখে। এই কারণেই এই খাত প্রায় ৩২ কোটির বেশি মানুষের কর্মসংস্থানে অবদান রাখে। আর সেই কারণেই ভারতের অর্থনীতির অন্যতম ভরসা হল এমএসএমই।