
বর্তমানে যাঁরা বেসরকারি চাকরি করেন, তাঁদের কাছে চাকরি বদল করার পর প্রভিডেন্ট ফান্ডের প্রয়োজনীয় বদল নিয়ে ধারণা থাকলেও অনেকে এখনও জানেন না যদি কেউ চাকরি ছেড়ে দেন, তাহলে প্রভিডেন্ট ফান্ড অ্যাকাউন্টে জমা থাকা টাকার কী হবে? অনেকেই মনে করেন, বেতন জমা বন্ধ হলেই প্রভিডেন্ট ফান্ডে সুদ পাওয়াও বন্ধ হয়ে যায়।
১৯৫২ সালের এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড স্কিম অনুযায়ী এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অ্যাকাউন্টে থাকা ব্যালেন্সের উপর প্রতি মাসের হিসাবে সুদ গণনা করা হয়। আর এই সুদ জমা পড়ে বছরে একবার। চাকরি বদল না হলে বা কোনও কারণে প্রভিডেন্ট ফান্ড অ্যাকাউন্টে টাকা জমা বন্ধ হলেও ৫৮ বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত এই সুদ মিলতে থাকে। ২০১৬ সালের আইন সংশোধনের পর সরকার স্পষ্ট করেছে অবসরের বয়সের আগে এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অ্যাকাউন্ট সক্রিয় থাকে। একই সঙ্গে সুদও জমা হতে থাকে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চাকরি বদলের কারণে নয়, আসল ঝুঁকি তৈরি হয় অবহেলার কারণে। অনেক কর্মী পুরনো সংস্থার প্রভিডেন্ট ফান্ড ট্রান্সফার করতে ভুলে যান। এর ফলে, একাধিক ইউএএন তৈরি হয়ে যায়। এতে বাড়ে জটিলতা। আর তার ফলে, কমে যায় কম্পাউন্ডিংয়ের সুফল। যদি একটি ইউএএনের অধীনে সব প্রভিডেন্ট ফান্ড একত্রে রাখা হয়, তাহলে নিয়ম মানা অনেক সহজ হয়ে যায়।
আপনি যদি চাকরি ছেড়েও দেন, তাহলেও আপনার এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড নিজের হিসাবে বাড়তে থাকে। নিয়ম মেনে আপনি যদি সময়ে প্রভিডেন্ট ফান্ড ট্রান্সফার করেন ও অসময়ে টাকা তুলে না নেন তাহলেই আপনার অর্থনৈতিক সুরক্ষা সুদৃঢ় হবে।