
বেশিরভাগ মানুষ প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করেন। অর্থাৎ, এসআইপি করেন। কিন্তু বছরের পর বছর মুদ্রাস্ফীতি হয়, মানুষের উপার্জন বাড়ে, খরচও বাড়ে। কিন্তু প্রতি মাসে বিনিয়োগের সেই অঙ্ক আর বাড়ে না। মুদ্রাস্ফীতির বাজারে টাকার দাম কমছে। ফলে, প্রতি বছর কিছুটা করে হলেও বিনিয়োগের অঙ্ক বাড়ানো উচিত, বলেন বিশেষজ্ঞরা। আর এখানেই কাজ করে ‘স্টেপ-আপ এসআইপি’। এই ব্যবস্থায় আপনি সময়ের সঙ্গে আপনার মাসিক বিনিয়োগের পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়িয়ে ফেলতে পারেন।
ধরা যাক, দুজন মাসে ৫ হাজার টাকা করে বিনিয়োগ শুরু করলেন। একজন তাঁর বিনিয়োগের অঙ্ক সময়ের সঙ্গে বদলালেন না। কিন্তু অপরজন প্রতি বছর তাঁর এসআইপির অঙ্ক ১০ শতাংশ হারে বাড়ালেন। ১২ শতাংশ রিটার্ন ধরলে, ১০ বছর পর একজনের হাতে থাকবে প্রায় ১৬ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা। আর অন্যজনের হাতে থাকবে মাত্র মাত্র ১১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা। ২০ বছর ধরে বিনিয়োগের পর এই ব্যবধান দেখলে চমকে যাবেন আপনিও। একজনের জমবে প্রায় ১ কোটি টাকার আশেপাশে। সেখানে অন্য জনের সঞ্চয় হবে মাত্র ৫০ লক্ষ। অর্থাৎ, স্রেফ কিছুটা নিয়ম মেনে বিনিয়োগ বাড়ালে সম্পদের পরিমাণ হবে প্রায় দ্বিগুণ।
আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আপনার বেতন বাড়লে বা বোনাস পেলে সেই বাড়তি টাকা এই স্টেপ-আপে ব্যবহার করুন। আপনি চাইলে নির্দিষ্ট শতাংশ, যেমন ৫ শতাংশ বা ১০ শতাংশ বা নির্দিষ্ট টাকা যেমন ৫০০ টাকা বা ১ হাজার টাকা বাড়াতে পারেন। বাজারে চড়াই-উতরাই থাকবেই। কিন্তু লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হবেন না। বিনিয়োগের মেয়াদ ৫-৭ বছরের বেশি হলে তবেই ইক্যুইটি ফান্ডের আসল সুফল পাওয়া যায়। জানবেন, আপনার ছোট পদক্ষেপই আগামীর বড় সঞ্চয়ের উৎস।