Gold Price: অনেক বাড়ল সোনার দাম, ২০২৬-এ রকেট গতিতেই এবার কমবে দাম?

Gold Price Prediction: এই সোনার দাম 'বুদ্বুদের' মতো ফেটে যাওয়ার সম্ভাবনার যুক্তির পিছনে অতীতের কিছু উদাহরণও রয়েছে।  ১৯৮০ সালে সোনার দাম শীর্ষে উঠেছিল। তখন সবাই তাড়াহুড়ো করে সোনা কিনেছিল। তারপর ৫৭ শতাংশ কমেছিল সোনার দাম। এরপর সেই হারে পৌঁছতে ২৫ বছর সময় লেগেছিল।

Gold Price: অনেক বাড়ল সোনার দাম, ২০২৬-এ রকেট গতিতেই এবার কমবে দাম?
ফাইল চিত্র।Image Credit source: PTI

|

Jan 29, 2026 | 12:59 PM

নয়া দিল্লি: রেকর্ড হারে বাড়ছে সোনার দাম। নিত্যদিন নতুন রেকর্ড তৈরি হচ্ছে সোনার দামে। তবে এখন যারা এই চড়া দামেও সোনা কিনছেন, তাদের খুশি হওয়ার বদলে বুকে শঙ্কা-ভয় তৈরি হচ্ছে। কেন? সোনার দাম তো বাড়ছে, তাহলে ক্ষতির তো সম্ভাবনা নেই! আসলে বিনিয়োগকারীদের ভয়, এই  সোনার দাম কি সত্যিই বাড়ছে নাকি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে এটি বৃদ্ধি করছে?

এই সন্দেহ বা শঙ্কা অমূলক নয়। অতীতেও সোনার দাম বিশাল বৃদ্ধি পেয়ে আবার পতন হয়েছে। যদি সোনার মূল্যবৃদ্ধির দিকে দেখা যায়, তাহলে শুধু ২০২৫ সালেই সোনার দাম ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি কোনও সাধারণ বৃদ্ধি নয়! বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি এক ধরনের ‘বুদবুদ’। এই বুদবুদ যে কোনও সময় ফেটে যেতে পারে। সাধারণ মানুষকে সেই ফাঁদে না পড়ার জন্য সতর্ক করা হচ্ছে।

একাংশের দাবি, বিদেশি কোম্পানিগুলির ‘রিপোর্ট’-এর ম্যাজিকে সোনার দাম চড়চড়িয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। যখন বাজারে সোনার দর  শীর্ষে থাকে, তখন গোল্ডম্যান স্যাক্স এবং জেপি মরগানের মতো বড় বিদেশি গবেষণা সংস্থাগুলি ইতিবাচক প্রতিবেদন লেখে যে সোনার দাম বাড়তে থাকবে। সাধারণ মানুষ ওই প্রতিবেদনে বিশ্বাস করে তৎক্ষণাৎ সোনা কেনে। বড় বিনিয়োগকারীরা ধীরে ধীরে তাদের সোনা বিক্রি করে মুনাফা লুটে নেয়। দিনের শেষে যখন দাম কমে, তখনও তারা লাভে থাকে। এদিকে যারা সর্বোচ্চ দামে কিনছেন, তারা ক্ষতির মুখে পড়েন।

যে কোনও পণ্যের দাম সরবরাহ এবং চাহিদার উপর নির্ভর করে। তবে সম্প্রতি অভিযোগ উঠছে যে লন্ডন এবং নিউ ইয়র্কের কিছু বড় ব্যাঙ্ক সোনার দাম নির্ধারণের জন্য যোগসাজশ করছে।আগেও  জে.পি. মরগান ব্যাঙ্ক “স্পুফিং” নামক একটি কৌশল ব্যবহার করে সোনার দাম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করেছিল।

কী এই স্পুফিং?

“স্পুফিং” কৌশল হল লক্ষ লক্ষ “জাল অর্ডার” দেওয়া। যদি আপনি কিনতে না চান, তাও অর্ডার দেওয়া এবং তারপর চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম বাড়লে, সেই অর্ডারগুলি বাতিল করা। যখন এই অপরাধ প্রকাশ পায়, তখন ব্যাঙ্কটিকে ৯২০ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করা হয়, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৭৬০০ কোটি টাকা।

সোনার দাম ব্যাপক কমে যাবে?

এই সোনার দাম ‘বুদ্বুদের’ মতো ফেটে যাওয়ার সম্ভাবনার যুক্তির পিছনে অতীতের কিছু উদাহরণও রয়েছে।  ১৯৮০ সালে সোনার দাম শীর্ষে উঠেছিল। তখন সবাই তাড়াহুড়ো করে সোনা কিনেছিল। তারপর ৫৭ শতাংশ কমেছিল সোনার দাম। এরপর সেই হারে পৌঁছতে ২৫ বছর সময় লেগেছিল।

সর্বশেষ ২০১১ সালে রেকর্ড দাম বেড়েছিল। তারপর ৪৫ শতাংশ কমেছিল সোনার দাম। সেই দাম পুনরুদ্ধার হতে ৪ বছর সময় লেগেছিল। এখন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন যে ২০২৬ সালেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি শেয়ার বাজার ধসে পড়ে, তাহলে বিনিয়োগকারীরা নগদ অর্থের বিনিময়ে সোনা ও রূপার ইটিএফ বিক্রি শুরু করবেন। এর ফলে সোনা ও রূপার দামে বড় ধরনের সংশোধন হতে পারে। সোনা-রুপোর দামে ব্যাপক পতন হতে পারে।

বর্তমানে সোনার যা দাম, তাতে গরিব মানুষদের সাধ্যের বাইরে চলে গিয়েছে। কিছুদিনেই তা মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরেও চলে যাবে। বিয়ের মরশুম চলছে, তাও মানুষ সোনা কেনা কমিয়ে দিয়েছে। খুচরো বাজারে সোনা কেনা-বেচা ব্যাপক কমে গিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা এটিকে  বিপদ সঙ্কেত বলে মনে করছেন। যখন সাধারণ মানুষ সোনা কিনতে পারবে না, তখন দাম অবশ্যই কমবে।