Petrol-Diesel Price Cut: ৮০ ডলারের থেকেও কমে ব্যারেল ব্যারেল ক্রুড তেল কিনছে ভারত, পেট্রোল-ডিজেলের দাম কমবে?
Crude Oil Price India: যুদ্ধের জেরেই ভারতে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বেড়েছে। তাও মার্চ-এপ্রিল মাসে দাম বাড়ানো হয়নি। মে মাসে কয়েক ধাপে মোট সাড়ে সাত টাকা দাম বাড়ানো হয়েছিল সরকারের তরফে। বাকি সমস্ত দেশের তুলনায় ভারতেই পেট্রোল-ডিজেলের দাম কম বেড়েছে।

নয়া দিল্লি: ইরান আমেরিকা যুদ্ধের জেরে আকাশছোঁয়া হয়েছিল অপরিশোধিত ক্রুড তেলের (Crude Oil) দাম। গত ফেব্রুয়ারির শেষভাগ থেকেই এই অতিরিক্ত দামের বোঝা বইতে হচ্ছে বিশ্বের বহু দেশকেই। ভারতের উপরে চাপ আরও বেশি কারণ ভারতে তেল ও জ্বালানির চাহিদার ৮০ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। তবে গত ১২ জুন আমেরিকা ও ইরান শান্তি চুক্তির (Iran-US Peace Deal) কথা ঘোষণা করতেই তেলের দামে বড়সড় পতন হয়েছে। এরপরই সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, তাহলে পেট্রোল-ডিজেলের দামও (Petrol-Diesel Price) কমবে নিশ্চয়ই?
ক্রুড তেলের দামের হিসাব-
বর্তমানে ক্রুড তেলের দাম ৮০ ডলারের নীচে রয়েছে। ১৬ জুন ক্রুড তেলের দাম ছিল ব্যারেল প্রতি ৭৮.৬৬ ডলার। যুদ্ধের সময় এই তেলই ভারতকে ১১৫ ডলার থেকে শুরু করে ১২৫ ডলারে কিনতে হয়েছে। এই হিসাবে দেখতে ভারত এখন কম দামেই তেল কিনছে। তবে দৃষ্টির পরিধি এতটুকু হলে চলবে না। দেখতে হবে যুদ্ধ শুরুর আগে দাম কত ছিল অপরিশোধিত ক্রুড তেলের?
ইরান-আমেরিকার যুদ্ধ শুরু হয়েছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি। তার আগে ফেব্রুয়ারিতেই ভারত প্রতি ব্যারেল ক্রুড তেল কিনেছে ৭০.৭০ ডলারে। এই তথ্য দিচ্ছে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের প্ল্যানিং ও অ্যানালাইসিস সেল। অর্থাৎ এখন যা দাম, সেই তুলনাতেও অনেক কম দামেই ভারত আগে তেল কিনছিল। সেই হিসাবে দেশ যে এখন সস্তায় তেল পাচ্ছে, তা বলা যায় না।
গত এপ্রিলে যুদ্ধ চলাকালীন ভারত ব্যারেল প্রতি ১১৪.৪৮ ডলারে ক্রুড তেল কিনেছে, মে মাসে সেই তেল কিনেছে ১০৬.২৩ ডলারে। আবার মার্চ মাসে, যখন পুরোদমে যুদ্ধ চলছে, তখন ১৭ মার্চ ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৪৬ ডলারে পৌঁছেছিল।
পেট্রোল-ডিজেলের দাম কমা সম্ভব?
যুদ্ধের জেরেই ভারতে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বেড়েছে। তাও মার্চ-এপ্রিল মাসে দাম বাড়ানো হয়নি। মে মাসে কয়েক ধাপে মোট সাড়ে সাত টাকা দাম বাড়ানো হয়েছিল সরকারের তরফে। বাকি সমস্ত দেশের তুলনায় ভারতেই পেট্রোল-ডিজেলের দাম কম বেড়েছে।
যুদ্ধের সময় দেশের অয়েল মার্কেটিং সংস্থাগুলির বিপুল ক্ষতি হয়েছে। তাদের এই ক্ষতি পূরণ হতে অনেকটা সময় লাগবে। যদি ক্রুড তেলের দাম কম থাকে, তাহলে সংস্থাগুলির ঘাটতি পূরণ হতে পারে। এর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারও পেট্রোল-ডিজেলে ১০ টাকা শুল্ক কমিয়েছিল মার্চের শেষভাগে। সেই ঘাটতি পূরণ করতে চাইবে সরকারও। তাই সরকার পেট্রোল-ডিজেলের দাম এখনই কমানোর কথা ঘোষণা করবে না বলেই অনুমান বিশেষজ্ঞদের।
পেট্রোল-ডিজেলের দাম কমালে কি লাভ হবে?
জ্বালানির দাম বাড়ালেই যে সরকারের লাভ, তা নয়। পেট্রোল-ডিজেলের দাম কমলেও এখন সরকারের লাভ হবে, কারণ এতে কনজামশন বাড়বে অর্থাৎ গ্রাহকরা আগের তুলনায় বেশি পেট্রোল-ডিজেল কিনবে। এতে সরকারের ট্যাক্স রেভেনিউ বাড়বে। এছাড়া জ্বালানির দাম কমলে রিটেল মূল্যবৃদ্ধিও কমবে। খাদ্যপণ্যের দাম কমবে।
