Basmati Rice Trade : বাসমতি চাল রপ্তানিতে বড় ধাক্কা ! ৫০ হাজার কোটি ক্ষতির আশঙ্কা ভারতের
জানা গিয়েছে, বাসমতি চাল রপ্তানির প্রায় ৭৫ শতাংশ আসে পঞ্জাব ও হরিয়ানা থেকে । তার মধ্যে মধ্যে ৩৫ শতাংশ হরিয়ানা, আর ৪০ শতাংশ পঞ্জাব। জানেন কি, ভারত হল বিশ্বের বৃহত্তম বাসমতি চাল রপ্তানিকারক দেশ। বিশ্বব্যাপী চাল সরবরাহের ৭০ শতাংশের বেশি উৎপাদন করে ভারত। বছরে প্রায় ৬০ লক্ষ টনেরও বেশি রপ্তানি করে। যার মূল্য প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা।

নয়া দিল্লি : পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি ভারতের বাজারে জোরালো প্রভাব ফেলতে চলেছে। ইতিমধ্যেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে। শেয়ার বাজারে ধস নেমেছে। ভারতের বাণিজ্যও সংকটে। রফতানি ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হয়েছে। স্তব্ধ হরমুজ প্রণালী। এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই পশ্চিম এশিয়ার পাশাপাশি আমেরিকা ও ইউরোপেও বাণিজ্য হয় ভারতের। কিন্তু, এবার পণ্য রফতানিতে সমস্যা তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই ভারতের চাল রফতানি ধাক্কা খেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পশ্চিম এশিয়াতে ভারত থেকে প্রচুর পরিমাণে বাসমতি চাল রফতানি করে। কিন্তু, এই মুহূর্তে রফতানি থমকে গিয়েছে। এরকম চলতে থাকলে আশঙ্কা করা হচ্ছে চাল রফতানিতে প্রায় ৫০ হাজার কোটির ক্ষতির মুখোমুখি হতে পারে ভারত।
জানা গিয়েছে, বাসমতি চাল রফতানির প্রায় ৭৫ শতাংশ আসে পঞ্জাব ও হরিয়ানা থেকে । তার মধ্যে মধ্যে ৩৫ শতাংশ হরিয়ানা, আর ৪০ শতাংশ পঞ্জাব। জানেন কি, ভারত হল বিশ্বের বৃহত্তম বাসমতি চাল রফতানিকারক দেশ। বিশ্বব্যাপী চাল সরবরাহের ৭০ শতাংশের বেশি উৎপাদন করে ভারত। বছরে প্রায় ৬০ লক্ষ টনেরও বেশি রফতানি করে। যার মূল্য প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা।
জানা গিয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষেও ভারত প্রায় ৬০ লক্ষ টন বাসমতি চাল রফতানি করেছে। পশ্চিম এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে বাসমতি চালের চাহিদা বেশি থাকে। ইরান, ইরাক,সংযুক্ত আরব আমিরশাহী ও আমেরিকায় মূলত রফতানি হয়। এদিকে,যুদ্ধ পরিস্থিতিতে রফতানিকারক সংস্থাগুলি জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার ফলে রফতানি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই বাণিজ্য ব্যাহত হতে শুরু করেছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বড় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। আর রফতানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে বাসমতি চালের দামও কমতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই প্রতি কেজিতে ৪-৫টাকা দাম কমেছে বাসমতি চালের। এর ফলে কৃষকরাও বড় ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হিসেব বলছে, প্রতি বছর যদি ভারত ৬০ লাখ টন চাল রফতানি করে, তাহলে এই অর্থবর্ষে সেই পরিমাণটা কমতে চলেছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় রফতানি এই মুহূর্তে বন্ধ রয়েছে। এদিকে, ৬০ লাখ টন চালের মূল্য ৫০ হাজার কোটি। তবে, যুদ্ধ যদি চলতে থাকে, তাহলে বড় আর্থির ক্ষতির মুখে পড়বে ভারত। ৫০ হাজার কোটি আর্থিক ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা।
গত তিনদিন ধরে ইরানের উপর যৌথ হামলা চালাচ্ছে ইজ়রায়েল-আমেরিকা। পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের জেরে এখনও পর্যন্ত ইরানে মৃত্যু হয়েছে ৫০০-র বেশি মানুষের। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এখনও চার-পাঁচ দিন ধরে যুদ্ধ চলবে। এদিকে, ইরানও স্পষ্ট করে দিয়েছে কোনওভাবেই তারা মাথা নোয়াবে না। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শান্তির বার্তা দিয়েছেন তিনি।
